যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাবে, আর তা সম্ভব না হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে অল্প সময়ের মধ্যেই ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতু ও বড় স্থাপনাগুলো ধ্বংস করার সামর্থ্য যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে।
ইরান প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, সব পরিস্থিতিতেই যুক্তরাষ্ট্র বিজয়ী হবে। হয় দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা হবে, নয়তো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে তিনি স্পষ্ট করে জানান, সামরিক সংঘাতের চেয়ে আলোচনার মাধ্যমে সংকটের সমাধানই তাঁর বেশি পছন্দ।
তিনি বলেন, আমি সমঝোতার পক্ষেই। কারণ আমি প্রায় নয় কোটি মানুষের ক্ষতি দেখতে চাই না। কিন্তু প্রয়োজন হলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস করা সম্ভব। একসময় ইরানের হাতে বিপুল অর্থ ছিল, এখন সেই অবস্থা আর নেই। তাদের কোনো অর্থও যুক্তরাষ্ট্র দেয়নি।
এর কয়েক দিন আগে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, চাইলে যুক্তরাষ্ট্র এক আঘাতেই ইরানের বর্তমান শীর্ষ নেতৃত্বকে নিশ্চিহ্ন করতে পারে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। ট্রাম্প বলেন, খামেনির জানাজায় অংশ নেওয়া শীর্ষ ব্যক্তিদের লক্ষ্যবস্তু করা সম্ভব হলেও আলোচনার সুযোগ বজায় রাখার স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্র তা করেনি।
ট্রাম্পের এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। আর্মেনিয়ায় অবস্থিত ইরানের দূতাবাস এক বিবৃতিতে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র কখনোই খামেনির মৃত্যুর শোক উপলব্ধি করতে পারবে না, কারণ তাদের সভ্যতা, ইতিহাস কিংবা মর্যাদাবোধ নেই। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মানুষকে হত্যা করা যায়, কিন্তু আদর্শকে কখনো ধ্বংস করা যায় না। খামেনিকে হত্যা করা হলেও তাঁর আদর্শ আরও বিস্তৃতভাবে ছড়িয়ে পড়বে।
এদিকে খামেনির মরদেহ পবিত্র নগরী কোমে পৌঁছেছে। হেলিকপ্টারে করে সেখানে নেওয়ার পর মঙ্গলবার জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর মরদেহ ইরাকের পবিত্র নগরী নজফ ও কারবালায় নেওয়া হবে।
আপনার মতামত লিখুন :