মৃত্যুর গুঞ্জনের মধ্যেই খামেনির জানাজায় হাজির আহমাদিনেজাদ

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ০৭ জুলাই, ২০২৬, ১২:৪৫ পিএম

ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে ঘিরে দীর্ঘদিনের মৃত্যুর গুঞ্জনের অবসান ঘটেছে। সাত মাস পর তিনি প্রকাশ্যে এসে অংশ নেন ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা ও শেষ বিদায়ের শোভাযাত্রায়। এতে স্পষ্ট হয়েছে, তাকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়া মৃত্যুর খবর সঠিক ছিল না।

খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে সাধারণ মানুষের সঙ্গে হেঁটে যাওয়া আহমাদিনেজাদের ছবি ও দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত একটি বার্তামাধ্যমেও এ সংক্রান্ত ছবি প্রকাশ করা হয়।

গত ফেব্রুয়ারিতে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাতের সময় তীব্র বিমান হামলার পর থেকে আহমাদিনেজাদ জনসমক্ষে দেখা দেননি। এরপরই তাকে নিহত বা নিখোঁজ বলে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। তবে খামেনির জানাজায় তার উপস্থিতি সেই সব জল্পনার অবসান ঘটিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের বর্তমান রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে আহমাদিনেজাদের এই প্রকাশ্য উপস্থিতি বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। নতুন নেতৃত্বের অধীনে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলের সময় তিনি আবারও রাজনৈতিক অঙ্গনে নিজের অবস্থান জানান দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

একসময় আলী খামেনির পূর্ণ সমর্থন নিয়েই আহমাদিনেজাদের রাজনৈতিক উত্থান ঘটে। বিশেষ করে দুই হাজার পাঁচ থেকে দুই হাজার নয় সাল পর্যন্ত তিনি শাসনব্যবস্থার অন্যতম প্রভাবশালী নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন। দুই হাজার নয় সালের বিতর্কিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময়ও খামেনি প্রকাশ্যে তার পক্ষে অবস্থান নেন। সেই নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই দেশজুড়ে ব্যাপক গণবিক্ষোভ শুরু হয়।

তবে দুই হাজার দশ সালের পর দুজনের সম্পর্কে বড় ধরনের দূরত্ব তৈরি হয়। তৎকালীন গোয়েন্দাপ্রধানকে অপসারণকে কেন্দ্র করে বিরোধ চরমে পৌঁছায়। আহমাদিনেজাদের সিদ্ধান্ত বাতিল করে খামেনি তাকে পুনর্বহাল করলে সাবেক এই প্রেসিডেন্ট টানা এগারো দিন সরকারি দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকেন। সেই ঘটনার পর থেকেই শাসকগোষ্ঠীর ভেতরে তার প্রভাব দ্রুত কমে যায়।

পরবর্তী সময়ে ইরানের নির্বাচন তদারকি পরিষদ তাকে এবং তার ঘনিষ্ঠদের একাধিক রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই তিনি দেশের মূল রাজনৈতিক ধারার বাইরে অবস্থান করছেন।

 

সূত্র: ইরান ওয়্যার, হাবারলার

Link copied!