আগামী তিন দিনে দেশের চার বিভাগের কয়েকটি নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে। এর ফলে নদী-সংলগ্ন নিচু এলাকা ও নিম্নাঞ্চলে আকস্মিক বন্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এ তথ্য জানিয়েছে।
সর্বশেষ আবহাওয়া ও বন্যা পূর্বাভাস অনুযায়ী, চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলার নদী-তীরবর্তী নিচু এলাকা সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে। দেশের অভ্যন্তরে এবং ভারতের উজানে টানা ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) চট্টগ্রামে ৩৯৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক জানিয়েছেন, গত ৪৩ বছরের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে এটিই সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হলেও সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে। এ সময়ে বান্দরবানে ১৭৬ মিলিমিটার, সীতাকুণ্ডে ১৭০ মিলিমিটার, হাতিয়ায় ১৪৩ মিলিমিটার, খেপুপাড়ায় ১০৬ মিলিমিটার, টেকনাফে ৯৪ মিলিমিটার এবং ঢাকায় ৪৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ুর সক্রিয় প্রভাবে আরও অন্তত দুই দিন ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। পাহাড়ধসের ঝুঁকি বিবেচনায় পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রচার চালানো হচ্ছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের অধিকাংশ নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে থাকলেও ভারী বৃষ্টির কারণে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে। ভারতের মেঘালয়, ত্রিপুরা এবং দেশের সিলেট ও বরিশাল বিভাগেও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। ভারতের ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ড এলাকায় অবস্থান করা মৌসুমি নিম্নচাপটি দুর্বল হয়ে বর্তমানে পূর্ব মধ্যপ্রদেশে লঘুচাপ হিসেবে অবস্থান করছে। এর প্রভাবে আগামী চার দিন বাংলাদেশের চার বিভাগ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, আসাম ও মেঘালয়ে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী তিন থেকে চার দিনের ভারী বৃষ্টির কারণে গোমতী, মুহুরী, ফেনী, সেলোনিয়া, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি আরও দ্রুত বাড়বে। ফলে আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বান্দরবান, কক্সবাজার, ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ির কিছু এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর নিম্নাঞ্চলও সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি গত এক দিনে কিছুটা কমলেও আগামী তিন দিনে তা দ্রুত বেড়ে সিলেট ও সুনামগঞ্জে সতর্কসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। একই সময়ে সারিগোয়াইন, সোমেশ্বরী, যাদুকাটা ও ভুগাই নদীর পানিও বাড়ছে। এর ফলে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার নদী-সংলগ্ন নিচু এলাকায় আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।
অন্যদিকে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বর্তমানে কিছুটা কমলেও আগামী তিন দিনে তা দ্রুত বাড়তে পারে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তিস্তা নদী বিপৎসীমা অতিক্রম করে নীলফামারী ও লালমনিরহাটের নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা সৃষ্টি করতে পারে। পরবর্তী ৭২ ঘণ্টায় ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানিও কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটে সতর্কসীমা স্পর্শ করতে পারে। তবে ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীর পানি আগামী কয়েক দিন বিপৎসীমার নিচেই থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান জানিয়েছেন, ভারী বৃষ্টির কারণে কয়েক দিনের জন্য আকস্মিক বন্যা দেখা দিলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম। বৃষ্টির প্রবণতা কমে এলে নদীর পানিও দ্রুত নেমে যাবে। তাই আপাতত দীর্ঘমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা নেই।

আপনার মতামত লিখুন :