৫ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে, উপকূলে সতর্কসংকেত বহাল

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ১০ জুলাই, ২০২৬, ০৫:৫৫ পিএম

৫ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে, উপকূলে সতর্কসংকেত বহাল

দেশের সামগ্রিক বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও এখনো পাঁচটি প্রধান নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে আগের দিনের তুলনায় পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি হয়েছে। গতকাল ছয়টি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে থাকলেও আজ সেই সংখ্যা কমে পাঁচটিতে নেমে এসেছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের শুক্রবার সকাল ৯টার বুলেটিনে জানানো হয়েছে, আগামী কয়েক দিনের বন্যা পরিস্থিতি মূলত দেশের ভেতর ও উজানের বৃষ্টিপাতের ওপর নির্ভর করবে।

এদিকে, টানা বর্ষণ ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম, মোংলা, পায়রা ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

গত চব্বিশ ঘণ্টায় দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ ২০৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে চট্টগ্রামে। একই সময়ে ভারতের মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে ১০৯ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এই বৃষ্টিপাতের প্রভাবেই আগামী দিনগুলোতে নদ-নদীর পানির গতিপ্রকৃতি নির্ধারিত হবে।

বর্তমানে দেশের নয়টি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে পাঁচটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে। বান্দরবানের সাঙ্গু নদীর পানি বিপৎসীমার ৯৫ সেন্টিমিটার এবং দোহাজারী পয়েন্টে ২৩ সেন্টিমিটার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। মাতামুহুরী নদীর লামা পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৪৭ সেন্টিমিটার এবং কক্সবাজারের চিরিঙ্গা পয়েন্টে ৩২ সেন্টিমিটার ওপরে রয়েছে।

এছাড়া কুশিয়ারা নদীর সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে ১৮ সেন্টিমিটার এবং সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ১০ সেন্টিমিটার ওপরে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। মৌলভীবাজারের মনু নদে মনু রেলসেতু পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার এবং মৌলভীবাজার পয়েন্টে ৮০ সেন্টিমিটার ওপরে রয়েছে। হবিগঞ্জের বল্লা পয়েন্টে খোয়াই নদীর পানি বিপৎসীমার ৬০ সেন্টিমিটার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে।

বিপৎসীমা অতিক্রম না করলেও কয়েকটি নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। তিস্তা নদীর ডালিয়া, কাউনিয়া ও তারাপুর পয়েন্ট, কুশিয়ারা নদীর শেরপুর পয়েন্ট, সুরমা নদীর কানাইঘাট, ছাতক ও সুনামগঞ্জ পয়েন্টে পানি সতর্কসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে। একই সঙ্গে সোমেশ্বরী নদীর কলমাকান্দা এবং ছোট ফেনী নদীর কোম্পানীগঞ্জ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রেও পানি সতর্কসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান জানিয়েছেন, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল এবং উজানের বৃষ্টিপাতের পরিমাণের ওপর আগামী দিনের বন্যা পরিস্থিতি নির্ভর করবে।

 

কেন্দ্রের আওতাধীন ১২৭টি পানি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের মধ্যে বর্তমানে ৭৯টিতে নদ-নদীর পানি বাড়ছে। অন্যদিকে ৪৩টি কেন্দ্রে পানি কমছে এবং পাঁচটি কেন্দ্রে পানির স্তর অপরিবর্তিত রয়েছে। পানি বৃদ্ধির এই ধারা অব্যাহত থাকলে দেশের নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

Link copied!