কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে ‘কওমি মাদরাসা ও উলামায়ে দেওবন্দের অবদান’ শীর্ষক এক তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে নাঙ্গলকোট ক্যাডেট মাদরাসা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ সেমিনারে উপজেলার বিভিন্ন কওমি মাদরাসার বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী, আলেম-ওলামা, শিক্ষক ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা অংশ নেন।
দিনব্যাপী সেমিনারটি দুটি অধিবেশনে অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট আলেম মাওলানা ইয়াকুব সাহেব এবং দ্বিতীয় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন মাওলানা লোকমান আহমদ। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ মুফতি লুৎফুর রহমান ফারায়েজী। বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন কুমিল্লার মুরাদনগরের মুফতি আমজাদ হোসাইন।
বক্তারা বলেন, পাক-ভারত উপমহাদেশে ইসলামী শিক্ষার প্রসার, নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ, সমাজ সংস্কার এবং দেশ ও জাতির বিভিন্ন সংকটময় সময়ে উলামায়ে দেওবন্দের অবদান অত্যন্ত গৌরবোজ্জ্বল। কওমি মাদরাসাগুলো কেবল ধর্মীয় শিক্ষাই নয়, বরং আদর্শবান, দেশপ্রেমিক, নৈতিক ও মানবিক গুণাবলিসম্পন্ন সুনাগরিক গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।
তারা আরও বলেন, বর্তমান সময়ের বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইসলামী শিক্ষার প্রসার এবং জাতীয় উন্নয়নে আলেম সমাজকে আরও সুসংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সব ধরনের মতপার্থক্য ও বিভেদ ভুলে সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান বক্তারা।
সেমিনারে কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বক্তারা বলেন, ভবিষ্যতে দেশ ও জাতির নেতৃত্ব দিতে হলে শুধু কিতাবি শিক্ষায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; যুগের চাহিদা অনুযায়ী আধুনিক জ্ঞান, দক্ষতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জন করতে হবে। উন্নত চরিত্র, গভীর জ্ঞান এবং সুদূরপ্রসারী চিন্তাধারার মাধ্যমে সমাজের সর্বস্তরে ইতিবাচক অবদান রাখারও আহ্বান জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত আলেম-ওলামা, শিক্ষার্থী ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা ঐক্যবদ্ধভাবে সমাজ ও দেশের কল্যাণে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। শেষে দেশ, জাতি এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে সেমিনারের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন :