ফেনীতে শহীদ সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

রাকিব হোসেন , ফেনী সদর সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ০৭ আগস্ট, ২০২৬, ০৮:৪০ পিএম

ফেনীতে শহীদ সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

ফাইল ফটো

শহীদ সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ফেনীতে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, একটি বছর পেরিয়ে গেলেও সহকর্মীকে হারানোর বেদনা আজও অমলিন। একই সঙ্গে তুহিন হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন তারা। বক্তারা স্মরণ করেন, গত বছরের ৭ আগস্ট গাজীপুরের ব্যস্ত চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয় দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ-এর স্টাফ রিপোর্টার আসাদুজ্জামান তুহিনকে। জনবহুল এলাকায় সংঘটিত এ নৃশংস হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে সাংবাদিক সমাজসহ বিভিন্ন মহলে তীব্র ক্ষোভ, নিন্দা ও প্রতিবাদের জন্ম দেয়।

স্মরণসভায় উপস্থিত ছিলেন ফেনী রিপোর্টার্স ক্লাবের সহ-সভাপতি সাংবাদিক মোকাররম বিল্লাহ, দৈনিক সরেজমিন পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার আলাউদ্দিন লিংকন, সত্যের অনুসন্ধান ২৪-এর স্টাফ রিপোর্টার চুমকি আক্তার, সাংবাদিক ইয়াছিন, দৈনিক প্রতিদিনের জেলা প্রতিনিধি জিয়া উদ্দিন, দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি রাকিব হোসেন, দাগনভূঞা উপজেলা প্রতিনিধি শামসু উদ্দিন জাফর, ফুলগাজী প্রতিনিধি জসিম উদ্দিনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

আলোচনা সভা শেষে মরহুম সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপস্থিত সবাই তার হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। পরিবারের সদস্যরা জানান, বাবাকে হারানোর পর ছোট্ট ছেলে তৌকির ধীরে ধীরে বাস্তবতা উপলব্ধি করতে শুরু করেছে। পরিবারের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা, তুহিন হত্যা মামলার বিচার যেন আর বিলম্বিত না হয় এবং আদালতে দোষী প্রমাণিত আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হয়।

এদিকে তুহিন হত্যা মামলার বিচারিক কার্যক্রমও এগিয়ে চলছে। মামলার বাদী ও নিহতের বড় ভাই সেলিমের প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী সাক্ষ্যগ্রহণ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া তুহিনের ভাতিজা সোহাগ, সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্য এবং আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করেছেন আদালত।

সাক্ষ্যগ্রহণের সময় মামলার প্রধান অভিযুক্ত কেটু মিজান ওরফে কোপা মিজান, তার স্ত্রী গোলাপিসহ আট আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। তুহিনের পরিবার ও সাংবাদিক সমাজের অভিন্ন দাবি, মামলাটি যেন দীর্ঘসূত্রতার শিকার না হয়। দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের দাবিও জানান তারা।

 

সিয়াম সরিষা
Link copied!