দাগনভূঞায় গ্যাস সংকটে সিএনজি ও বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়: যাত্রী ভোগান্তি চরমে

মোঃশামসুউদ্দিন জাফর , দাগনভূঞা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৭ আগস্ট, ২০২৬, ০৫:৩৫ পিএম

দাগনভূঞায় গ্যাস সংকটে সিএনজি ও বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়: যাত্রী ভোগান্তি চরমে

দাগনভূঞায় গ্যাস সংকটকে কেন্দ্র করে সিএনজি ও বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগে সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। যাত্রীদের অভিযোগ, নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে বিভিন্ন অজুহাতে বাড়তি টাকা নেওয়া হচ্ছে। এতে প্রতিদিনই যাত্রী ও চালকদের মধ্যে উত্তেজনা, বাকবিতণ্ডা, এমনকি হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় যাত্রীরা স্বীকার করছেন যে, গ্যাস সংকটের কারণে পরিবহন খাতে চালকদের সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। তবে সেই সংকটকে কেন্দ্র করে যাত্রীদের কাছ থেকে ইচ্ছামতো অতিরিক্ত ভাড়া আদায় কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ গ্যাস সংকট একটি রাষ্ট্রীয় ও সামগ্রিক সমস্যা, যার প্রভাব পরিবহন মালিক, চালক ও যাত্রী সবার ওপরই পড়ে। ফলে সংকটের পুরো দায় সাধারণ যাত্রীর ওপর চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়।

অভিযোগ রয়েছে, দাগনভূঞার বিভিন্ন সড়কে কিছু সিএনজি চালক ও পরিবহন শ্রমিক নিজেদের মতো করে ভাড়া নির্ধারণ করছেন। যাত্রীরা নির্ধারিত ভাড়া দিতে চাইলে অনেক সময় তাদের সঙ্গে চালকদের তর্কে জড়িয়ে পড়তে হচ্ছে। এ নিয়ে সড়ক ও স্ট্যান্ড এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। সাধারণ যাত্রীদের প্রশ্ন, জ্বালানি সংকটের কারণে যদি পরিবহন খাতে অতিরিক্ত ব্যয়ের বাস্তবতা তৈরি হয়, তাহলে সেটি সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা, যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণ এবং প্রশাসনিক নজরদারি প্রয়োজন। কিন্তু যে যার মতো করে ভাড়া বাড়িয়ে দিলে পুরো পরিবহন ব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছেন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ। প্রতিদিন কর্মস্থল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা-বাণিজ্য কিংবা জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াত করতে গিয়ে তাদের নির্ধারিত আয়ের একটি বড় অংশ পরিবহন খরচে চলে যাচ্ছে। একদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাড়তি দাম, অন্যদিকে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর তৈরি হচ্ছে বাড়তি চাপ।

শুধু অর্থনৈতিক ভোগান্তিই নয়, ভাড়া নিয়ে যাত্রী ও চালকদের মধ্যে বিরোধ এখন সামাজিক অস্থিরতারও কারণ হয়ে উঠছে। প্রতিদিনের বাকবিতণ্ডা, উত্তেজনা ও হাতাহাতির ঘটনা যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘাতে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। ফলে বিষয়টি এখন আর শুধু ভাড়ার প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই, এটি জননিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলার সঙ্গেও জড়িত হয়ে পড়ছে।

স্থানীয়দের মতে, একটি রাষ্ট্রীয় সংকটকে কেন্দ্র করে কেউ যদি অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সুযোগ নেয়, তাহলে তার প্রভাব শুধু একজন যাত্রীর ওপর পড়ে না, এর মাধ্যমে পুরো এলাকার পরিবহন ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত চিত্র বের করা প্রয়োজন।

এ ক্ষেত্রে প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট পরিবহন কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত নজরদারি জরুরি বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ। কোন রুটে কত ভাড়া কার্যকর, সংকটের কারণে ভাড়া পরিবর্তনের কোনো বৈধ সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না এবং চালকরা সেই সিদ্ধান্ত মেনে চলছেন কি না এসব বিষয় স্পষ্টভাবে জানানো দরকার। একই সঙ্গে চালকদের সমস্যার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। গ্যাসের সংকট থাকলে চালকদের অতিরিক্ত সময়, খরচ ও ভোগান্তি হতে পারে। তাই তাদের ন্যায্য দাবি থাকলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। তবে কোনো সংকটের সুযোগ নিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে স্বেচ্ছাচারীভাবে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হলে সেটিও বন্ধ করতে হবে।

জনসাধারণের দাবি, পরিবহন খাতে ভাড়া নিয়ে সৃষ্ট এই অস্থিরতার দ্রুত অবসান ঘটানো হোক। নির্ধারিত ভাড়া স্পষ্টভাবে কার্যকর করা, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ তদন্ত করা এবং যাত্রী-চালক উভয়ের স্বার্থ বিবেচনায় একটি গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একটি শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খলাপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠায় সরকার ও প্রশাসনের পাশাপাশি পরিবহন মালিক, চালক এবং সাধারণ যাত্রী সবারই দায়িত্ব রয়েছে। কিছু মানুষের অনিয়ম বা বেপরোয়া আচরণের কারণে যেন সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। জনগণের প্রত্যাশা একটাই গ্যাস সংকটের স্থায়ী সমাধান, ভাড়া ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা। সংকট সবার, তাই সংকটের বোঝাও ন্যায়সংগতভাবে বহন করতে হবে কোনো একটি পক্ষের ওপর চাপিয়ে দেওয়া নয়।

সিয়াম সরিষা
Link copied!