দেশের যেকোনো মাজার ধ্বংসের চক্রান্ত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। তিনি বলেন, “বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে দেশের ১২৭টি মাজার ধ্বংস ও বন্ধ করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল। এমনকি একজন মুসলমান আরেকজন খাদেমকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। ভবিষ্যতে আর কোনো মাজারে হাত দিলে আমরা ঘরে বসে থাকব না।
বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ পৌর সদরের বিজয় চত্বরে আহলে সুন্নত ওয়াল জামা'য়াত দেবীগঞ্জ উপজেলা শাখা আয়োজিত ‘জশনে জুলুসে ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সুফিবাদ, পীর-তরিকা ও মাজারের সংস্কৃতি দেশের ইসলামের অবিচ্ছেদ্য অংশ, এগুলো ভাঙার অধিকার কারও নেই। কোনো উগ্রবাদী গোষ্ঠীকে দেশে ‘মওদুদী আইন’ বাস্তবায়ন করতে দেওয়া হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আপনারা ভেবেছিলেন ক্ষমতায় চলে গেছেন, এমনকি মন্ত্রিসভাও গঠন করেছিলেন; কিন্তু জনগণ সেই আশা পূরণ হতে দেয়নি। আমরা মহানবী (সাঃ)-এর আদর্শ ও হিলফুল ফুজুলের ন্যায়পরায়ণতার নীতি ধরে ঐক্যবদ্ধ থাকব।”
বক্তব্যে এলাকার উন্নয়ন ও কৃষি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দেন, যেখানে ডিলার নেই সেখানে দ্রুত সার বিক্রির ডিলার নিয়োগ করে কৃত্রিম সংকট দূর করা হবে, যাতে কৃষকদের বেশি দামে সার কিনতে না হয়। পাশাপাশি সোলার প্রজেক্টের মাধ্যমে বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ এবং সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বয়স্ক ভাতা ও কৃষক কার্ডের শতভাগ বাস্তবায়ন করা হবে। আহলে সুন্নত ওয়াল জামা'য়াত দেবীগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি হামিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সফিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য গোলাম মাহবুব জিহাদী।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পঞ্চগড় জেলা যুবদলের সভাপতি ফেরদৌস ওয়াহিদ রাসেল, পৌর বিএনপির সদস্য অ্যাডভোকেট এম এ বারী, দেবীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল গনি বসুনিয়া, পৌর বিএনপির সভাপতি সরকার ফরিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল আলম সোহেল, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রোকনুজ্জামান জাপান, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কাদেরী কিবরিয়া রানা, আহলে সুন্নত ওয়াল জামা'য়াতের উপজেলা সদস্য সচিব মোশাররফ হোসেন বাবুলসহ দেবীগঞ্জের বিভিন্ন ইউনিয়নের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা।

আপনার মতামত লিখুন :