রাকিব হোসেন : শিশু, কিশোর-কিশোরী ও নারীর উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও অধিকার বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ফেনী সদর উপজেলার ধলিয়া ইউনিয়নে সচেতনতামূলক উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (৩০ আগস্ট) ফেনী সদর উপজেলার ৮ নম্বর ধলিয়া ইউনিয়নের দৌলতপুর বলি বাড়ি সংলগ্ন দৌলতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ উঠান বৈঠকের আয়োজন করে জেলা তথ্য অফিস, ফেনী।
গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের ‘শিশু, কিশোর-কিশোরী ও নারী উন্নয়নে সচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম’ শীর্ষক প্রকল্পের ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিক (জুলাই-সেপ্টেম্বর) জিওবি খাতের আওতায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) সৈয়দ এ’ মুমেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফেনী জেলা তথ্য অফিসের তথ্য অফিসার এস.এম. আল আমিন।
এ সময় মিতালী সমাজসেবা সংস্থার সভানেত্রী মিজ লুতফুন্নাহার পারভীন, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, নারী ও অভিভাবকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সৈয়দ এ’ মুমেন বলেন, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেও সচেতনতামূলক এ আয়োজনে উপস্থিত হওয়ায় অংশগ্রহণকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছে গণযোগাযোগ অধিদপ্তর।
তিনি আরও বলেন, সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার আওতায় নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, নারীর জন্য গাড়ি, খাল খনন ও বৃক্ষরোপণসহ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের সুস্থ ও স্বাভাবিক বিকাশ নিশ্চিত করতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। একই সঙ্গে কিশোর-কিশোরীদের মাদক, অপরাধ ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে অভিভাবকদের আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে তথ্য অফিসার এস.এম. আল আমিন বলেন, “পরিবারে মায়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরিবার তার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে ব্যর্থ হলে কিশোর গ্যাং ও মাদকের মতো ভয়াবহ সামাজিক সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। তিনি অভিভাবকদের সন্তানদের পর্যাপ্ত সময় দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আপনার সন্তানকে স্মার্টফোন নয়, বই দিন। সন্তানরা শুধু পিতা-মাতার আদেশ পালন করে না; তারা পিতা-মাতাকে অনুকরণ করতেও বেশি আগ্রহী। তাই সন্তানদের জন্য নিজেদের ভালো উদাহরণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।
তিনি বলেন, শিশু-কিশোরদের মানসিক বিকাশ, নৈতিক শিক্ষা ও সৃজনশীলতা বৃদ্ধিতে পরিবারকে ইতিবাচক ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে মাদক, অনলাইন আসক্তি, কিশোর অপরাধ ও সামাজিক অবক্ষয় প্রতিরোধে অভিভাবকসহ সমাজের সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। উঠান বৈঠকে বক্তারা শিশু-কিশোরদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, নারীর অধিকার ও মর্যাদা রক্ষা, মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন জোরদার এবং পারিবারিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
পরে অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন সংশ্লিষ্টরা। এ সময় শিশু-কিশোর ও নারীর উন্নয়নে সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে পরিবার ও সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। অনুষ্ঠানের সভাপতি এস.এম. আল আমিন উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে সচেতনতামূলক উঠান বৈঠকের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

আপনার মতামত লিখুন :