কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের বিশেষ অভিযানে একটি সচল সরকারি শর্টগান, একটি দেশীয় তৈরি এলজি বন্দুক ও দুই রাউন্ড তাজা কার্তুজসহ এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় অস্ত্র পরিবহনে ব্যবহৃত একটি ডিসকভার মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়। সোমবার ৩১আগস্ট ২০২৬, ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের মনোহরগঞ্জ থানাধীন নাথেরপেটুয়া এলাকায় বিশেষ তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করে কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি চৌকস দল। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি হলেন মোঃ এয়াকুব খান ওরফে বাবর (৩২)। তিনি নোয়াখালী জেলার সেনবাগ থানার জয়নগর গ্রামের মোঃ তৈয়ব খান ও মনোয়ারা বেগমের ছেলে।
পুলিশ জানায়, কুমিল্লা জেলার পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান, পিপিএম-এর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে জেলাজুড়ে অবৈধ অস্ত্র, মাদক উদ্ধার এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা শাখা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, নোয়াখালী জেলা থেকে এক ব্যক্তি মোটরসাইকেলযোগে আগ্নেয়াস্ত্র বহন করে কুমিল্লার দিকে আসছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ দল কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের নাথেরপেটুয়া এলাকায় কৌশলগতভাবে তল্লাশি চৌকি স্থাপন করে। ভোরের দিকে একটি সন্দেহভাজন ডিসকভার মোটরসাইকেল সেখানে পৌঁছালে পুলিশ তাকে থামার সংকেত দেয়।
পুলিশের সংকেত পেয়ে মোটরসাইকেল চালক পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ডিবি পুলিশের সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে আটক করতে সক্ষম হন। পরে তার দেহ ও হেফাজতে থাকা সামগ্রী তল্লাশি করে একটি সচল সরকারি শর্টগান, একটি দেশীয় তৈরি বন্দুক বা এলজি এবং দুই রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। এ সময় অস্ত্র পরিবহনে ব্যবহৃত ডিসকভার মোটরসাইকেলটিও জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে ১. একটি সচল সরকারি শর্টগান ২. একটি দেশীয় তৈরি এলজি বন্দুক ৩. দুই রাউন্ড তাজা কার্তুজ বা গুলি ৪. অস্ত্র পরিবহনে ব্যবহৃত একটি ডিসকভার মোটরসাইকেল
কুমিল্লা জেলার পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান, পিপিএম বলেন, কুমিল্লা জেলাকে অস্ত্র, মাদক ও অপরাধমুক্ত রাখতে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রয়েছে। অপরাধী যেই হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় আনতে জেলা পুলিশের প্রতিটি ইউনিট সার্বক্ষণিক তৎপর রয়েছে। জনস্বার্থে এ ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গুলির ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে এসব অস্ত্র কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে, কার কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে বহন করা হচ্ছিল এবং এর সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি বা সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত রয়েছে কি না সে বিষয়েও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
কুমিল্লা জেলা পুলিশের এই অভিযানকে অবৈধ অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রাখতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আপনার মতামত লিখুন :