লোহাগড়ায় পুলিশ হেফাজতে গৃহবধূর লাশ, অনৈতিক আচরণের অভিযোগে চালক আটক

রাসেদুল ইসলাম , লোহাগড়া (নড়াইল) সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ০২:৫৭ পিএম

লোহাগড়ায় পুলিশ হেফাজতে গৃহবধূর লাশ, অনৈতিক আচরণের অভিযোগে চালক আটক

ফাইল ফটো

নড়াইলের লোহাগড়ায় পুলিশ হেফাজতে থাকা এক গৃহবধূর মরদেহের সঙ্গে অনৈতিক আচরণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক অ্যাম্বুলেন্সচালকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সাগর শেখ (২৪) নামে ওই চালককে স্থানীয় লোকজন আটক করে মারধরের পর পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন। পরে পুলিশ তাকে ৫৪ ধারায় জেলহাজতে পাঠিয়েছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে লোহাগড়া থানার চত্বরে রাখা একটি অ্যাম্বুলেন্সে এ ঘটনা ঘটে বলে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযুক্ত সাগর শেখ উপজেলার লক্ষ্মীপাশা পাম্প এলাকার মৃত কামরুল শেখের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত ১০টার দিকে লোহাগড়া ইউনিয়নের ছাগলছেড়া গ্রামের সামিয়া আক্তার লামিয়া (১৮) নামে এক গৃহবধূ গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় লোহাগড়া থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে। মামলাটি ২৯ আগস্ট দায়ের করা হয়, যার নম্বর ৩৮।

নিহতের পরিবারের দাবি, মরদেহটি থানার চত্বরে রাখা একটি অ্যাম্বুলেন্সে ছিল। রাত আনুমানিক ২টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সচালক সাগর শেখ অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় তিনি মরদেহের সঙ্গে অনৈতিক আচরণের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। নিহতের এক স্বজন বিষয়টি দেখতে পেয়ে পরিবারের সদস্যদের জানান। পরে নিহতের মা লাভলী বেগম বিষয়টি পুলিশকে জানায়। এরপর থেকে অ্যাম্বুলেন্সচালক সাগর পলাতক ছিল। 

রবিবার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে থেকে সাগরকে দেখতে পেয়ে উত্তেজিত জনতা তাকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে।  নিহতের মা লাভলী বেগম অভিযোগ করে বলেন, “অ্যাম্বুলেন্সচালক সাগর আমার মেয়ের শরীরের কাপড় খুলে অনৈতিক কাজ করার চেষ্টা করছিলেন। আমি বিষয়টি দেখে ফেলি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, অ্যাম্বুলেন্সের জানালা গামছা দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল, যাতে ভেতরের কিছু দেখা না যায়। তাঁর দাবি, তাঁর মেয়ে মাদ্রাসায় পড়াশোনা করতেন। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

এদিকে, ঘটনার একটি ভিডিও রোববার বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয় লোকজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে থেকে সাগর শেখকে আটক করে মারধর করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়। এ বিষয়ে লোহাগড়া থানার ওসি (তদন্ত) অজিত কুমার রায় বলেন, “ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। তারা বর্তমানে বাগেরহাটে লাশ দাফন-কাফনের কাজে রয়েছে। তারা থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে পরবর্তী সময়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আপাতত অভিযুক্ত সাগরকে ৫৪ ধারায় জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।”

তবে মরদেহের সঙ্গে অনৈতিক আচরণের অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য দেয়নি। অভিযোগের বিষয়টি তদন্তের পরই প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত হওয়া যাবে।

সিয়াম সরিষা
Link copied!