জামালপুর-ঢাকা রুটে বাস ধর্মঘটের কারণে যাত্রী ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। জানা গেছে- ৩১ আগস্ট সদর উপজেলার লাহিড়ীকান্দাতে রাজীব পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে অটোরিকশার সংঘর্ষে চারজন নিহত ও প্রায় ২০জন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। এরই জেরে বুধবার বিকেলে রাজীব পরিবহনের দুটি বাস আটকে বিক্ষুব্ধ স্থানীয় জনতা ভাঙচুর চালায়।সড়কে নিরাপত্তার দাবি তুলে বুধবার রাতেই জরুরি সভা শেষে জেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়ন ৩ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার ভোর থেকে ঢাকাগামী সব দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়। রাজিব পরিবহনের দুটি বাস ভাঙচুর, চালক ও হেলপারদের ওপর হামলার প্রতিবাদে জামালপুর-ঢাকা রুটে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস চলাচল বন্ধ করে দেন তারা।
এদিকে বৃহস্পতিবার ভোর থেকে এই কর্মবিরতি শুরু হওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। কোনো আগাম ঘোষণা ছাড়াই ঢাকাগামী দূরপাল্লার বাস সার্ভিস বন্ধ থাকায় জামালপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে এসে শত শত যাত্রীকে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। অনেককেই বাধ্য হয়ে বাড়ি ফিরে যেতে দেখা গেছে। আবার জরুরি প্রয়োজনে ঢাকা যাওয়ার জন্য অনেকে বিকল্প হিসেবে মাইক্রোবাস, কার কিংবা ছোট যানবাহনে চড়ে গন্তব্যে রওনা হওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে এই সুযোগে ছোট গাড়িগুলো স্বাভাবিক ভাড়ার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া আদায় করছে বলে ভুক্তভোগী যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন।
জামালপুর জেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা জানিয়েছেন, রাস্তায় বাস ভাঙচুর এবং স্টাফদের ওপর নির্যাতন কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এই হামলার ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা এবং শ্রমিকদের জানমালের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা পর্যন্ত ঢাকা রুটে দূরপাল্লার কোনো গাড়ি চলবে না।জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুস সাকিব জানান, নান্দিনায় বাস ভাঙচুরের ঘটনায় শ্রমিকদের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং যাত্রীদের দুর্ভোগ লাঘব করতে পুলিশ প্রশাসন দ্রুত বাস মালিক ও শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চালাচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন :