রবিবার, ১৪ Jul ২০২৪, ১০:৩৮ পূর্বাহ্ন

আপডেট
ফাঁসছেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, ধরা হচ্ছে চাকরিপ্রাপ্তদের ওসি প্রদীপের হাতে নির্যাতিত সাংবাদিকের আহাজারি দুদকের নামে ভয়ঙ্কর চাঁদাবাজির ফাঁদ বিশ্বমানের খেলোয়াড় গড়তে পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী মুরাদনগরে অদের খালের অবৈধ ব্রিজটিকে ভেঙেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত, ক্ষোভে সাংবাদিকের উপর হামলা সিরাজগঞ্জে পাওয়া তিন শিশুর সন্ধান চায় সদর থানা পুলিশ ময়মনসিংহ পুলিশ লাইন্স জাদুঘরে আসলে বঙ্গবন্ধুকে চিনতে পারবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গড়ে যাওয়া কর্মস্থানের উছিলায় নুরুল ইসলাম কে আল্লাহ বেহেস্ত নসিব করবে গণপদযাত্রা ও রাষ্ট্রপতির কাছে স্মারকলিপি পেশ কর্মসূচি কোটাবিরোধীদের নিজেকে ‘প্রভু’ দাবি করা এমপি মজিদের বক্তব্যে সমালোচনার ঝড়
জীবিকা নির্বাহের হাতিয়ার যখন পিঁপড়ার ডিম

জীবিকা নির্বাহের হাতিয়ার যখন পিঁপড়ার ডিম

মমিন তালুকদার ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:

জীবিকার জন্য কত বিচিত্র কাজই না করে মানুষ। তেমনি এক বিচিত্র পেশা পিঁপড়ার ডিম সংগ্রহ করা । বন জঙ্গলে ঘুরে ঘুরে সংগ্রহ করে পিঁপড়ার ডিম। তাও আবার লাল পিঁপড়ার ডিম। মাছ শিকারিদের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি উপাদান হচ্ছে পিঁপড়ার ডিম। এসব ডিম সংগ্রহের পর তা বিক্রি করে যা উপার্জন হয়, তা দিয়েই চলে ডিম শিকারির সংসার। টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার মাকরাই এলাকার পাহাড়ি বনের ভিতর দেখা মেলে এমন এক পেশার মানুষের সাথে। তার নাম আবুবকর ছিদ্দিক। বয়স ৪৫ বছর। তিনি কাঠ ফাটা রোদ আর ভ্যাপসা গরমে ঘামার্ত শরীরে খোঁজে বেড়াচ্ছেন লাল পিঁপড়ার ডিম। তার বাড়ি ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার কৈয়েরচালা গ্রামে।

তিনি দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে পিঁপড়ার ডিম বিক্রি করে সংসার চালান। পিঁপড়ার ডিম সংগ্রহকারী আবুবকর ছিদ্দিক বলেন, সব পিঁপড়ার বাসায় ডিম পাওয়া যায় না। খোঁজতে হয় লাল পিঁপড়ার বাসা। যেখানে মিলবে প্রচুর পরিমাণ সাদা রঙের ডিম। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত কঠোর পরিশ্রম করে সংগ্রহ করতে হয় এই ডিম। সারা দিনে ১ থেকে দেড় কেজি ডিম সংগ্রহ করতে পারি। তিনি আরো বলেন, এক সময় পিঁপড়ার ডিম সারাদিন সংগ্রহ করে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা বিক্রি করা যেত। এখন সারাদিন পিঁপড়ার ডিম সংগ্রহ করে ১ হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা বিক্রি করতে পারি। সাধারণত দেশীয় গাছগুলোতেই লাল পিঁপড়ার বাসা পাওয়া যায়। তবে আমাদের এখানে শালবনে গাছের ডালের আগার দিকের চার-পাঁচটা পাতা মুখের লালা দিয়ে জোড়া দিয়ে শক্ত বাসা তৈরি করে পিঁপড়ার দল। ওই সব বাসা থেকেই ডিম পাওয়া যায়। বড় বাসায় ১০০ থেকে ১৫০ গ্রাম ডিম পাওয়া যায়। এই ডিম সংগ্রহ ও সংরক্ষণের কাজটি খুব সতর্কের সঙ্গে করতে হয়। ডিমগুলো মাছের খাবার হিসেবে বিক্রি হয়। ডিম আস্ত না রাখলে মাছ খায় না।

মাকরাই এলাকার আমিন মন্ডল বলেন, ফুলবাড়িয়া এলাকার অনেক লোক আমাদের এখানে আসে পিঁপড়ার ডিম সংগ্রহ করতে। তাদের অধিকাংশই দরিদ্র। এই কাজে কোনো পুঁজি লাগে না বললেই চলে। এজন্য তারা এটাকে জীবিকা নির্বাহের মাধ্যম হিসাবে বেঁছে নিয়েছেন। এই ডিমের ক্রেতা হচ্ছে বরশি দিয়ে সৌখিন মাছ শিকারিরা। গ্রামের যারা পিঁপড়ার ডিম সংগ্রহ করে তাদের কাছ থেকে কিনে নেয়ার জন্য বেপারিও আছেন। বেপারিরা কিনে নিয়ে টাঙ্গাইল জেলা শহরে আবার কেউ কেউ ঢাকায় নিয়েও বিক্রি করে থাকেন।

পানির নির্দিষ্ট স্থানে আধার ফেলে মাছ ডেকে আনার জন্য এই ডিমের চাহিদা রয়েছে অনেক। সাগরদীঘি বাজারের শৌখিন মাছ শিকারি আব্দুস সামাদ, এবাদুল্লাহ চৌধুরী জুয়েল এবং সাজাহান মিয়া জানান, লাল পিঁপড়ার ডিম মাছ শিকারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। মাছ শিকারিদের কাছে এর চাহিদা অনেক। প্রায় ১৬ বছর ধরে পিঁপড়ার ডিম সংগ্রহ করছেন তিনি। তবে শুধু আবুবকর ছিদ্দিক নয়। পিঁপড়ার ডিমে জীবিকা নির্বাহ করে গ্রাম বাংলার অনেক মানুষ।

শেয়ার করুন

Comments are closed.




দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ © All rights reserved © 2024 Protidiner Kagoj |