আধুনিক যুগেও কমেনি জাফলংয়ের শিল পাটার কদর। এখনো প্রায় প্রতিটি ঘরে মসলা বাঁটতে ব্যবহার হচ্ছে শিল পাটা। পাথরের রাজ্যের শিল পাটার কারিগরেরাও তৈরি করে চলেছেন নানা ধরনের নকশা করা শিলপাটা।
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলংয়ের সংগ্রাম সীমান্ত ফাঁড়ি এলাকায় রয়েছে শিল পাটার কারখানা। এসব কারখানায় কারিগরদের নিপুণ হাতে তৈরি হয় মসলা বাঁটার কাজে আদি যুগ থেকে ব্যবহৃত শিল পাটা।
একটা সময় মসলা বাটার অন্যতম উপায় ছিল শিল পাটা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আধুনিকতা যুগে মসলা বাঁটতে চলে এসেছে বিভিন্ন যন্ত্র। কিন্তু তবু কমেনি এই শিলপাটার কদর। প্রকৃত রন্ধনশিল্পীরা মসলা বাঁটায় এখনো ভরসা করেন শিলপাটায়।
শিল পাটার কারিগর ইউসুব মিয়া বলেন,আধুনিক যন্ত্রের প্রভাবে আমাদের পেশাটি বিলুপ্তির পথে চলে যাচ্ছিল।তবে শিল পাটার ব্যবসা আগের তুলনায় বেড়েছে। যে হারে শিল পাটার কদর বাড়ছে তাতে আমরাও স্বচ্ছন্দে চলতে পারব।
দাম সম্পর্কে জানতে চাইলে তাঁরা বলেন, আকারভেদে শিল পাটার দাম ২শত থেকে-৮শত টাকা। পাথর সংকটের কারণে দাম কিছুটা বেশি। তারপরও শিল পাটার দাম ক্রেতাদের হাতের নাগালেই রয়েছে বলে জানান কারিগরেরা।
ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা সাইফুল ইসলাম বলেন, যন্ত্রের সাহায্যে তৈরি মসলায় প্রকৃত স্বাদ পাওয়া যায় না। তাই মসলার তাজা স্বাদ গ্রহণের জন্য নিজেই পরিবারের জন্য একটি শিল পাটা কিনেছি। জাফলংয়ের শিল পাটার গুণগত মান ভালো। মসলা তৈরিতে পাটা থেকে কোনো বালু উঠে আসে না।
বৃহত্তর জাফলং পর্যটন কেন্দ্র ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুল কুদ্দুছ বলেন, ব্লেন্ডার দিয়ে মসলা গুড়া করে রান্না থেকে শিল পাটা দিয়ে বেটে রান্না করার স্বাদি আলাদা হয়। কারিগরা সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত শিল পাটা তৈরি করে থাকেন। শিল পাটা তৈরি করার কারণে স্বাস্থ্যের অনেক ঝুঁকিতে পরতে হয়। তাই আমাদের সংঘঠনের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ী ও কারিগরদেরকে সার্জিক্যাল মার্কস দিয়ে থাকি।
আপনার মতামত লিখুন :