অল্প বৃষ্টিতেই হবিগঞ্জ শহরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা: নাগরিক দুর্ভোগ চরমে

মোঃ উজ্জ্বল আহমেদ , হবিগঞ্জ জেলা সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ০৭ মে, ২০২৫, ০৪:৪৯ পিএম

ছবি: প্রতিদিনের কাগজ

হবিগঞ্জ শহরে সামান্য বৃষ্টিতেই বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে, যা জনজীবনে চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে উমেদনগর পশ্চিম এলাকায় ড্রেনেজ ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে অকার্যকর হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় তিন বছর ধরে আওয়ামী দোসররা ড্রেনের সামনে মাটি ফেলে দখল করে রেখেছে, ফলে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে।

উমেদনগর পাটনি হাটিতেও একই চিত্র দেখা যায়। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাঘাট তলিয়ে যায়, ফলে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিবার বৃষ্টির পর তাদের ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ে, যা তাদের দৈনন্দিন জীবনে অসহনীয় পরিস্থিতি সৃষ্টি করে।

নাগরিকদের অভিযোগ, পৌর কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এ বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংস্কার ও অবৈধ দখল উচ্ছেদে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন ভুক্তভোগীরা। তারা দাবি করছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের দুর্যোগের সম্মুখীন হতে হবে শহরবাসীকে।

এদিকে শায়েস্তানগর, অনন্তপুর, মাহমুদাবাদ, কালিগাছতলা, শ্যামলী, গরুর বাজার, চিড়াকান্দি, মুসলিম কোয়ার্টারসহ বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির পরপরই রাস্তাঘাট ও বাসাবাড়িতে হাঁটুসমান পানি জমে যায়। পুরাতন খোয়াই নদী ভরাট হয়ে যাওয়া, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং ড্রেনগুলোর নিয়মিত পরিষ্কার না হওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

শায়স্তানগর, অনন্তপুর ও মাহমুদাবাদ এলাকায় প্রায় ১৫ হাজার পরিবার সামান্য বৃষ্টিতেই পানিবন্দি হয়ে পড়ে। এক ঘণ্টা বা আধা ঘণ্টার বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনে ২-৩ দিন সময় লাগে। বৃষ্টির পানির প্রধান আধার পুরাতন খোয়াই নদী দখল-ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে ।

হবিগঞ্জ পৌরসভা জলাবদ্ধতা নিরসনে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, যেমন নতুন ড্রেন নির্মাণ, পুরাতন ড্রেন সংস্কার ও পরিষ্কার, সরু কালভার্ট ভেঙে বড় করা এবং পুরাতন খোয়াই নদীর ২ কিলোমিটার অংশ পরিষ্কার ও আংশিক খনন। তবে এখনও অনেক এলাকায় ড্রেনগুলো ময়লা-আবর্জনায় ভরে আছে, যা ভারি বর্ষণে জলাবদ্ধতার শঙ্কা বাড়ায়।

পরিবেশবিদরা মনে করেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে শুধুমাত্র ড্রেন-কালভার্ট নির্মাণ যথেষ্ট নয়; খালগুলোকে দখলমুক্ত করে খননের আওতায় আনতে হবে।

শহরবাসী এই জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পেতে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

Link copied!