পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেছেন, মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনের কারণে সপ্তাহের অধিকাংশ সময় ঢাকায় অবস্থান করলেও তার হৃদয়ের টান সবসময় বোদা-দেবীগঞ্জের মানুষের প্রতি থাকে।
রোববার (২৫ মে) দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্য সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “মন্ত্রণালয়ের কাজে আমাকে সপ্তাহে পাঁচ দিন ঢাকায় থাকতে হয়। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করি। কিন্তু আমার মন, প্রাণ ও আত্মা পড়ে থাকে বোদা-দেবীগঞ্জের মানুষের কাছে।”
তিনি জানান, বোদা-দেবীগঞ্জ এলাকার মানুষের উন্নয়ন ও কল্যাণে তিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। সরকারি সহায়তা ও উন্নয়ন কার্যক্রমের সুবিধা যেন প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন।
তিনি বলেন, “আমি শুধু একটি দলের প্রতিনিধি নই, আমি সকল মানুষের প্রতিনিধি। তাই যার প্রাপ্য, তাকে তার অধিকার বুঝিয়ে দিতে হবে।”
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সহায়তা ও সুবিধা বণ্টনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম বা স্বজনপ্রীতি বরদাস্ত করা হবে না। এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অতীতের সহায়তা বণ্টন ব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি বলেন, “আগে অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত অসহায় মানুষের পরিবর্তে প্রভাবশালী বা সামর্থ্যবান ব্যক্তিরাও সুবিধা পেয়েছেন। কিন্তু আমাদের সহায়তা প্রকৃত অসহায় মানুষের জন্য। আমরা হয়তো সবাইকে সহায়তা করতে পারব না, তবে যাদের অধিকার রয়েছে, তাদের কাছে সহায়তা পৌঁছাতে হবে।”
আর্থিক সহায়তার তালিকা প্রণয়নে অনিয়মের বিষয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেলে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, “আল্লাহ আমাকে সম্মান দিয়েছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়েছেন। যতদিন দায়িত্বে আছি, দেবীগঞ্জ-বোদার মানুষের একটি টাকাও যেন আমার পকেটে না ঢুকে।”
বিরোধী দলের সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কেউ যদি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি বা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করে, সরকার ও দল তা বরদাস্ত করবে না।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবুজ কুমার বসাক, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল গনি বসুনিয়া, সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন তবারক হ্যাপিসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
এ সময় উপজেলার ১ হাজার ৫০০ অসহায় মানুষের মাঝে ২০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়।
আপনার মতামত লিখুন :