গ্যাসের ইনকামিং ইনলেট প্রেসার ১৪০ পিএসআইজির (প্রতি বর্গ ইঞ্চিতে পাউন্ড গেজ) জায়গায় মাত্র ৯ পিএসআইজি, অনুমোদিত আউটলেট পেশার ১৫ পিএসআইজির মধ্যে গড়ে ৪.৭৫ পিএসআইজি (জেনারেটর), বয়লারের ক্ষেত্রে তা মাত্র ১.৫ পিএসআইজি প্রত্যক্ষ করলেন বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। শনিবার (৩১ মে) ভাওয়াল মির্জাপুরে অবস্থিত নোমান গ্রুপের তালহা ফেব্রিক্স লিমিটেড পরিদর্শনকালে এমন চিত্র দেখতে পান বলে জানা গেছে।
নোমান গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ জাবের জ্বালানি উপদেষ্টাকে প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন করে দেখান। এ সময় পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান রেজানুর রহমান, তিতাস গ্যাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহনেওয়াজ পারভেজ অংশ নেন। গ্যাসের ওই চাপে কোম্পানিটি সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ উৎপাদন করতে পারে। কয়েক মাস ধরেই ওই অবস্থার কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে বলে জানায় কোম্পানিটি।
দেশের বৃহত্তর রপ্তানির স্বার্থে আজ থেকে আর রপ্তানিমুখী কারখানাগুলোতে গ্যাস সংকট থাকবে না বলে জানিয়েছেন জ্বালানি উপদেষ্টা। তিনি বলেছেন, সাগর উত্তাল থাকায় দুইদিন ধরে এলএনজি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। যে কারণে সংকট তৈরি হয়েছে, সন্ধ্যার দিক থেকে সরবরাহ বাড়বে। কয়েক মাস ধরেই গ্যাসের সংকট নিয়ে শিল্প মালিকরা সরব রয়েছেন। কয়েক দফায় উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকও করেন। তারপরও পরিস্থিতি খুব একটা উন্নত হয়নি। চাপ কম থাকায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে বলে আসছেন শিল্প উদ্যোক্তারা।
শিল্পে গত বছরের তুলনায় ২১ শতাংশ গ্যাস বেশি সরবরাহ করা হয়েছে বলে দাবি করে আসছে পেট্রোবাংলা। ২০২৪ সালের জানুয়ারি-এপ্রিল মেয়াদে শিল্পে গ্যাস সরবরাহের গড় পরিমাণ দৈনিক ৮২৩ মিলিয়ন ঘনফুট, চলতি বছরে একই সময়ে (জানু-এপ্রিল-২০২৫) ৯৯৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পেট্রোবাংলা।
তালহা ফেব্রিক্স লিমিটেড মাসে ৩০ মিলিয়ন ডলারের রপ্তানি করার সক্ষমতা রয়েছে। গতমাসে মাত্র ৫০ শতাংশ উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছে। কয়েক মাস ধরেই গ্যাসের এই সংকট চলে আসছে। সক্ষমতার ৫০ শতাংশ অলস বসে থাকছে। গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো না গেলে কারখানা চালিয়ে নেওয়া কঠিন হতে পারে বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি। পেট্রোবাংলার হিসাব মতে প্রতিশ্রুত (ইতোমধ্যে অনুমোদিত) গ্রাহকদের দৈনিক গ্যাসের চাহিদা রয়েছে ৫৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট, আর সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে মাত্র ২৭০০ মিলিয়নের মতো। এরমধ্যে দেশীয় উৎস থেকে আসছে ১৯০০ মিলিয়নের মতো, আর বাড়তি যোগান আসছে আমদানিকৃত এলএনজি থেকে। এলএনজি আমদানির পরও ঘাটতি সামাল দেওয়া যাচ্ছে না।
রাজধানী শহর ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, টঙ্গী শিল্প এলাকায় এখনই গ্যাস সংকট জটিল আকার ধারণ করেছে। এই যখন অবস্থা তখন আতঙ্কের হচ্ছে মজুদ কমে যাওয়া প্রতিনিয়ত কমে আসছে দেশীয় ফিল্ডগুলোর উৎপাদন। এক সময় ২৮০০ মিলিয়নের উপরে উৎপাদন হলেও এখন তা ১৯০০ মিলিয়নের নিচে নেমে গেছে। সবচেয়ে বড় গ্যাস ফিল্ড বিবিয়ানার উৎপাদন প্রত্যেকদিনেই কমছে। ফিল্ডটি থেকে ৯৪০ মিলিয়নের মতো পাওয়া গেলেও ২০২৬ সালের পর উৎপাদন অর্ধেকে নেমে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও সরকার দেশীয় গ্যাস ফিল্ডের উন্নয়নে জোর দিয়েছে।
চলমান ৫০ কূপ খনন প্রকল্পের সঙ্গে আরও ১০০ কূপ খনন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। তবে নানা আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় কাঙ্ক্ষিত গতিতে এগুতো পারছে না। এখনই সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা না হল পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে মনে করছে জ্বালানি সংশ্লিষ্টরা।
আপনার মতামত লিখুন :