আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সোনা ও স্বর্ণালংকার খাতে বড় ধরনের কর-সুবিধার প্রস্তাব এসেছে। এতে সোনার গয়না কেনার ক্ষেত্রে ক্রেতাদের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বর্তমানে দেশে সোনা ও স্বর্ণালংকার বিক্রির ওপর মোট বিক্রয়মূল্যের ৫ শতাংশ হারে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) আরোপ করা হয়। তবে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারে দীর্ঘদিন ধরে সোনার দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকায় গয়না কিনতে ক্রেতাদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে সরকার বিদ্যমান মূল্যভিত্তিক ভ্যাট ব্যবস্থায় পরিবর্তনের প্রস্তাব করেছে। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, মোট বিক্রয়মূল্যের ওপর ৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপের পরিবর্তে প্রতি ভরি সোনার ওপর নির্দিষ্টভাবে ২ হাজার ৫০০ টাকা ভ্যাট ধার্য করা হবে।
শুধু ভ্যাটই নয়, স্বর্ণালংকার সরবরাহের ক্ষেত্রে উৎসে করের হারও কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে এ খাতে ৫ শতাংশ উৎসে কর দিতে হলেও নতুন বাজেটে তা কমিয়ে মাত্র ০.৫ শতাংশ নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে।
বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গয়নার দাম প্রায় ২ লাখ ১৮ হাজার ৩৫০ টাকা। বিদ্যমান ব্যবস্থায় এ মূল্যের ওপর ৫ শতাংশ ভ্যাট হিসেবে ১০ হাজার টাকার বেশি পরিশোধ করতে হয়। কিন্তু নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে একই পরিমাণ সোনার জন্য ভ্যাট দিতে হবে মাত্র ২ হাজার ৫০০ টাকা। ফলে প্রতি ভরিতে কয়েক হাজার টাকা পর্যন্ত সাশ্রয় হবে।
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, ভ্যাট ও উৎসে কর কমানো হলে সোনার গয়নার বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এতে একদিকে যেমন ক্রেতাদের ব্যয় কমবে, অন্যদিকে বৈধ উপায়ে সোনা ও স্বর্ণালংকারের বেচাকেনাও আরও উৎসাহিত হবে।
আপনার মতামত লিখুন :