২০২৬-২৭ অর্থবছরে যেসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ০৯ জুন, ২০২৬, ০৫:০৫ পিএম

২০২৬-২৭ অর্থবছরে যেসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে দেশীয় শিল্প ও উৎপাদন খাতকে উৎসাহ দিতে একদিকে বিভিন্ন কর-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে আমদানিনির্ভর ও বিলাসী পণ্যের ওপর শুল্ক-কর বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এই নীতির মূল উদ্দেশ্য হলো স্থানীয় শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়া, অপ্রয়োজনীয় আমদানি নিরুৎসাহিত করা এবং বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কমানো।

এর ফলে নতুন অর্থবছরে বাজারে বেশ কয়েকটি পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে আমদানিনির্ভর খাদ্যপণ্য, প্রসাধনী, নির্মাণসামগ্রী এবং তামাকজাত দ্রব্যের ক্ষেত্রে ভোক্তাদের অতিরিক্ত ব্যয় গুনতে হতে পারে।

কাজু বাদামে বাড়তে পারে শুল্ক

দেশে কাজু বাদামের বাণিজ্যিক চাষ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে আমদানিকৃত কাজু বাদামের ওপর শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে বিদেশ থেকে আমদানি করা কাজু বাদামের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যেতে পারে।

আমদানি করা মাছের বাজারেও চাপ

দেশীয় মৎস্য খাতকে সুরক্ষা দিতে বিদেশি মাছ আমদানিতে নতুন কর আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে। পাঙাস মাছের ফিলেট আমদানিতে ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক এবং উচ্চমূল্যের হিমায়িত মাছের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে প্রিমিয়াম ও সামুদ্রিক মাছের দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সিগারেট ও তামাকজাত পণ্যে বাড়তি কর

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার অংশ হিসেবে তামাকজাত পণ্যের ওপর করের হার আরও বাড়ানো হচ্ছে। ফলে প্রতি প্যাকেট সিগারেটের দাম ৫ থেকে ৭ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। পাশাপাশি সিগারেট উৎপাদনের কাঁচামাল আমদানিতেও বড় ধরনের শুল্ক আরোপের প্রস্তাব রয়েছে। ফিল্টার পেপারের ওপর ৩০০ শতাংশ, নিকোটিন আমদানিতে ৩৫০ শতাংশ এবং নিকোটিন পাউচের ওপর ৪০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হতে পারে।

দেশি-বিদেশি মদের দামও বাড়বে

বিদেশি মদের ওপর বিদ্যমান উচ্চ শুল্কের পাশাপাশি নতুন কর আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রায়ত্ত কেরু অ্যান্ড কোম্পানির উৎপাদিত মদের ওপরও নির্দিষ্ট হারে ভ্যাট আরোপের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে দেশি ও বিদেশি—উভয় ধরনের মদের দাম বাড়তে পারে।

নির্মাণ খাতে ব্যয় বৃদ্ধি

এমএস রডের উৎপাদন পর্যায়ে সুনির্দিষ্ট কর ও ভ্যাট মিলিয়ে প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত কর আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি কার্যকর হলে রডের দাম বাড়বে এবং তার সরাসরি প্রভাব পড়বে আবাসন ও অবকাঠামো নির্মাণ ব্যয়ের ওপর।

বিদেশি প্রসাধনী হবে আরও ব্যয়বহুল

দেশীয় কসমেটিকস শিল্পকে সুরক্ষা দিতে বিদেশি ব্র্যান্ডের প্রসাধনী ও সৌন্দর্যপণ্যের ওপর আমদানি পর্যায়ে অতিরিক্ত ভ্যাট আরোপের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে বিদেশি স্কিনকেয়ার, মেকআপ ও অন্যান্য বিউটি পণ্য কিনতে ভোক্তাদের বেশি অর্থ ব্যয় করতে হবে।

প্রক্রিয়াজাত ও বিলাসী খাদ্যপণ্যে বাড়তি খরচ

বিভিন্ন আমদানিনির্ভর প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, প্রিমিয়াম ভোগ্যপণ্য এবং উচ্চমূল্যের বিদেশি খাদ্যপণ্যের ওপরও অতিরিক্ত কর আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে সুপারশপনির্ভর বিলাসী খাদ্যপণ্যের দাম বাড়তে পারে।

ভোক্তা ব্যয় বাড়লেও আশা দেশীয় শিল্পে

নতুন বাজেট কার্যকর হলে বাজারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। বিদেশি প্রসাধনী, আমদানি করা খাদ্যপণ্য, কাজু বাদাম, প্রিমিয়াম মাছ ও তামাকজাত পণ্যের ব্যবহারকারীদের ব্যয় বাড়বে। তবে সরকারের প্রত্যাশা, এই নীতির ফলে দেশীয় শিল্প ও উৎপাদন খাত শক্তিশালী হবে, বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে এবং দীর্ঘমেয়াদে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

Link copied!