সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার বারঠাকুরী ইউনিয়নের আমলশিদ গ্রামের আব্দুস সামাদের মরদেহ অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর দেশে ফিরেছে। গত ২৪ মে সৌদি আরবে দালাল চক্রের নির্যাতনের কারণে তার মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ পরিবারের। বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) সকাল ১১টায় আমলশিদ জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
এর আগে বুধবার রাতে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মরদেহ গ্রহণ করেন সামাদের চাচা আবুল কালাম।
এদিকে জানাজার আগেই শাহপরান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত (সিলেট) থেকে সামাদের পিতাসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ১০৭/১১৭ ধারায় ফৌজদারি নোটিশ ইস্যু করা হয়। বিষয়টি জানাজায় অংশ নিতে আসা মুসল্লিদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করে। স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলেছেন, সামাদের বাড়ি জকিগঞ্জ হলেও সিলেটের আদালত থেকে এমন নোটিশ কেন? অনেকেই এটিকে দালাল চক্রের অপচেষ্টা বলে মন্তব্য করেন।
সামাদের বাবা, সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল মতিন বলেন, “দালাল কবির আহমদ অনিক আমার ছেলেকে সৌদি নিয়ে গিয়ে দীর্ঘ ৮ মাস অমানুষিক নির্যাতন করেছে। মৃত্যুর আগে সামাদ ফোনে বলেছিল, ‘বাবা আমাকে বাঁচাও, আমাকে অন্ধকার ঘরে আটকে রেখেছে।’ তার মৃত্যুর খবরও অনিক জানায়নি। এলাকাবাসীর আন্দোলনে পরে লাশ ফেরত আসে।”
তিনি আরও জানান, অনিক ও তার পিতা অহিদুর রহমান আইদুর বর্তমানে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পালিয়ে আছেন। এলাকাবাসী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, অহিদুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মসজিদের মতওয়াল্লির দায়িত্ব নিয়ে অর্থ আত্মসাৎ ও দালালি করে আসছেন।
জানাজায় বক্তব্য রাখেন বারঠাকুরী ইউপি চেয়ারম্যান মহসিন মর্তুজা চৌধুরী টিপু, জকিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন সেলিম, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন নসির, সমাজসেবী আক্তার হোসেন রাজু, যুব জামাতের সভাপতি আবিদুর রহমান ও ইউপি সদস্য নুরুল ইসলাম প্রমুখ।
আপনার মতামত লিখুন :