দেবীর পায়ের সিঁদুরে নিজেকে রাঙিয়ে বিদায় দিলেন ভক্তরা

মোঃ মাহমুদুল হাসান , পাথরঘাটা (বরগুনা) সংবাদাতা

প্রকাশিত: ০২ অক্টোবর, ২০২৫, ০৭:৫০ পিএম

শারদীয় দুর্গোৎসবের মহাষ্টমী থেকে দশমী পর্যন্ত চারদিন ভক্তদের প্রাণের উল্লাসে মাতিয়ে শেষে এল বিদায়ের ক্ষণ। আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে বরগুনার পাথরঘাটা সহ বিভিন্ন পূজামণ্ডপে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানালেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।

বরগুনার পাথরঘাটায় শারদীয় দুর্গোৎসব শেষে মহা দশমীতে চোখের জলে দেবী দুর্গাকে বিদায় দিলেন ভক্তরা। পূজামণ্ডপজুড়ে সকাল থেকেই ভিড় জমে ওঠে নারী-পুরুষ, শিশু ও বৃদ্ধদের । ঢাক-ঢোলের তালে, শঙ্খধ্বনি আর উলুধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে চারপাশ । এ-সময় পূজামণ্ডপগুলো ভরে ওঠে ভক্তদের ঢল আর সিঁদুর খেলার উল্লাসে। হাসিমুখে, নেচে-গেয়ে, সিঁদুরে রাঙিয়ে ভক্তরা বিদায় জানান দেবী দুর্গাকে।

বিদায়ের আগে ভক্ত নারীরা দেবীর পায়ে সিঁদুর পরিয়ে দেন। এরপর সেই সিঁদুরে নিজেদের কপাল  রাঙিয়ে নেন। এসময় নারী ভক্তরা একে অপরকে সিঁদুর মেখে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। চারপাশে তখন সৃষ্টি হয় এক আবেগঘন পরিবেশ।

পাথরঘাটা কেন্দ্রীয় পূজামণ্ডপে উপস্থিত ভক্তরা জানান, “মা দুর্গার আগমন আমাদের জীবনে আনন্দ বয়ে আনে। আবার বিদায়ের সময়ে বুক ভরে ওঠে কষ্টে। তবে আগামী বছর আবার দেবী আসবেন—এই আশাতেই তাঁকে বিদায় জানাই।”

উপজেলা হিন্দু ঐক্যের সভাপতি বাবু অরুন কর্মকার প্রতিদিনের কাগজকে বলেন  “বিজয়া দশমীর দিনটা আমাদের জন্য আনন্দ আর বেদনার মিশ্র অনুভূতির । সিঁদুর খেলার সময় হাসি-আনন্দ থাকে , কিন্তু প্রতিমা বিসর্জনের সময় মনটা কেমন খালি খালি লাগে। ”

সিঁদুর খেলতে আসা আরেক তরুণী নন্দিতা কর্মকার আমাদের জানান, “দেবীকে সিঁদুরে রাঙিয়ে বিদায় জানানো বাঙালির চিরকালীন সংস্কৃতি। আমরা বিশ্বাস করি, এ আচার নতুন বছরের জন্য শুভতা বয়ে আনে।”

পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক  সোহাগ কর্মকার  প্রতিদিনের কাগজকে বলেন, “বরগুনায় এবারের দুর্গোৎসব অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সিঁদুর খেলা আর বিসর্জনের মধ্য দিয়ে ভক্তরা আনন্দে-উল্লাসে দেবীকে বিদায় জানিয়েছেন।”

দশমীর বিকেলে দেবীকে বিদায়  জানিয়ে শোভাযাত্রার মাধ্যমে নিয়ে যাওয়া হয় পাথরঘাটা নদীর ঘাটে। সেখানে বিসর্জন দেওয়া হয় প্রতিমা। নদীর জলে প্রতিমা ভাসিয়ে দেওয়ার সময় ভক্তদের চোখে জল ঝরতে দেখা যায় । এক এক করে নদীতে বিসর্জন দেওয়া হয় প্রতিমাগুলো। নদীর জলে প্রতিফলিত হয় সিঁদুরে রাঙানো দেবীর মুখমণ্ডল ।  ভক্তরা ভেজা চোখে বিদায় জানালেও তাদের বিশ্বাস—দেবী আগামী বছর নতুন করে শক্তির বার্তা নিয়ে ফিরে আসবেন।

এভাবেই সিঁদুররাঙা হাসিমুখে, নাচে-গানে আর ভক্তিমাখা পরিবেশে  সমাপ্তি ঘটলো শারদীয় দুর্গোৎসবের। 

ভক্তদের বিশ্বাস, দেবী বিদায় নিলেও তিনি রেখে গেছেন আশীর্বাদ, যা তাদের জীবনে শুভ শক্তি ও সাফল্য বয়ে আনবে। দেবীর আগমন যেমন আনন্দের, বিদায় তেমনি দুঃখের। তবে আগামী বছর আবার দেবী মায়ের আগমনের অপেক্ষায় থাকবেন তারা।

Link copied!