নাজমুল হক মুন্না, উজিরপুর: গত ১৪ নভেম্বর কানাডার বাংলাদেশ দূতাবাসের কাছে দেশে ফিরতে ট্রাভেল পারমিট চেয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক অভি। কিন্তু দূতাবাস এই পারমিট ইস্যু না করে সিদ্ধান্তের জন্য অভির আবেদনটি পাঠিয়ে দিয়েছে ঢাকায় পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বরাবর। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। ওই সূত্র আরও জানায়, অন্তর্বর্তী সরকারের নীতি নির্ধারকরা এই পারমিটের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত অটোয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস অভির আবেদন প্রসেস করবে না। যদিও নিজ দেশে ফেরার জন্য যে কোনো নাগরিক ট্রাভেল পারমিট পেতে পারে এবং এই পারমিট সাধারণত ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ইস্যু করার নিয়ম। দেশে ফিরলে অভি আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করবেন, এ রকম সম্ভাবনার কথাও এলাকায় ব্যাপক প্রচারিত রয়েছে।
গোলাম ফারুক অভি ১৯৯৬ সালে অনুষ্ঠিত ৭ম জাতীয় সংসদের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য ছিলেন। মেয়াদকালীন সময়ে নির্বাচনী এলাকার যোগাযোগ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে তার ভূমিকা স্থানীয় জনগণের কাছে বেশ প্রশংসিত হয়েছিল।
২০০১ সালে অনুষ্ঠিত ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অভি পরাজিত হন। পরবর্তীতে অভির নামে বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক মামলা দায়ের করা হয়। এছাড়া ২০০২ সালে মডেল তিন্নির অস্বাভাবিক মৃত্যুর ৬ বছর পরে ২০০৮ সালে অভির নামে এই মামলার চার্জশিট দেওয়া হয়। যদিও এই মৃত্যুর ঘটনায় কেরানীগঞ্জ থানায় প্রথমে একটি আত্মহত্যার মামলা রুজু হয় এবং রুজুকৃত সেই মামলার এজাহারে অভির নাম ছিল না। মামলার রায়ের তারিখ ৪১ বার পুনঃ নির্ধারণের পরে ২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ শাহীনুর আক্তার এই মামলা থেকে গোলাম ফারুক অভিকে তার অনুপস্থিতিতে বেকসুর খালাস দেন। আদালত রায়ের পর্যবেক্ষণে জানান যে, প্রদত্ত সাক্ষ্য-প্রমাণে এই মর্মে প্রতীয়মান হয়েছে যে মডেল তিন্নি প্রকৃতপক্ষে আত্মহত্যা করেছিলেন।
আপনার মতামত লিখুন :