কেরাণীগঞ্জে পুলিশের চেকপোস্টে অস্ত্র ও ককটেলসহ আন্তঃজেলা ডাকাত দলের চার সদস্য আটক

ফয়সাল হাওলাদার , সিনিয়র ক্রাইম রিপোর্টার

প্রকাশিত: ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৫, ০৭:৫৪ পিএম

ঢাকা জেলার কেরাণীগঞ্জ উপজেলায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের চার সক্রিয় সদস্যকে অস্ত্র, ককটেল ও ডাকাতির সরঞ্জামসহ আটক করা হয়েছে। এ সময় আরও ১০ থেকে ১২ জন ডাকাত পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মাননীয় পুলিশ সুপার, ঢাকা জেলা মোঃ মিজানুর রহমান মহোদয়ের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, কেরাণীগঞ্জ সার্কেল মোঃ জাহাঙ্গীর আলমের তত্ত্বাবধানে অফিসার ইনচার্জ এম সাইফুল আলম পিপিএম ও পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত)  মোঃ ইলিয়াস হোসেনের সরাসরি নেতৃত্বে অদ্য ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ রাত আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে রোহিতপুর ইউনিয়নের পুরাতন সোনাকান্দা মোল্যা বাড়ির সামনে তিন রাস্তার মোড়ে একটি চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়।

চেকপোস্ট চলাকালে রাত আনুমানিক ১টা ৪০ মিনিটে আব্দুল্লাপুর দিক থেকে আগত একটি নীল রংয়ের জ্যাক গাড়িকে থামার জন্য সংকেত দিলে গাড়িটি সংকেত অমান্য করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পুলিশ দ্রুত প্রায় ২০০ গজ সামনে বেরিকেড দিয়ে গাড়িটি আটক করতে সক্ষম হয়। গাড়ি তল্লাশি করে চারজন ডাকাতকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো ডাকাত দলের ড্রাইভার মোঃ মামুন হাওলাদার (৩৪), আরিফ মৃধা (৩০), কামাল মাদবর (৪০) এবং কুন্দুল ওরফে হৃদয় মোল্লা ওরফে ছোট (২২)। তারা সবাই ঢাকার কদমতলী ও আশপাশ এলাকায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করলেও তাদের স্থায়ী ঠিকানা ঝালকাঠি, পটুয়াখালী ও বরিশাল জেলার বিভিন্ন উপজেলায়।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত ডাকাতরা উক্ত গাড়িতে একত্রিত হয়ে আশপাশ এলাকায় সংঘবদ্ধ ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তাদের সহযোগী অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জন ডাকাত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ধৃত ডাকাত ড্রাইভার মোঃ মামুন হাওলাদারের বিরুদ্ধে ডাকাতি, ডাকাতির প্রস্তুতি, ছিনতাই, চুরি ও অস্ত্র আইনে মোট ১০টি মামলা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা সবাই আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত।

এ সময় ডাকাতদের কাছ থেকে একটি সচল গোল্ডেন রংয়ের পুরাতন ওয়ান শুটার গান, তিন রাউন্ড তাজা কার্তুজ, একটি ব্যবহৃত কার্তুজের খোসা, একটি একপাশে ধারালো ছোড়া, তিনটি লোহার তৈরি শাবল, একটি স্ক্রু ড্রাইভার, তিনটি ককটেল এবং ডাকাতি কাজে ব্যবহৃত নীল রংয়ের জ্যাক গাড়ি উদ্ধার করা হয়, যার রেজিস্ট্রেশন নম্বর ঢাকা মেট্রো-ড ১৪-৩৪১০। পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতি ও অস্ত্র আইনে পৃথক পৃথক মামলা রুজুর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পলাতক ডাকাতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এ অভিযানের মাধ্যমে এলাকায় ডাকাতির বড় ধরনের একটি চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে বলে স্থানীয়রা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এবং পুলিশের তৎপরতার প্রশংসা করেছেন।

Link copied!