ভৈরবে তেল সংকটে বিপাকে ৩ শতাধিক বাইকার

নিজস্ব সংবাদদাতা , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ০২ এপ্রিল, ২০২৬, ০১:৪৭ পিএম

জয়নাল আবেদীন রিটন, ভৈরব: কিশোরগঞ্জের ভৈরবে জ্বালানি তেল সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ভৈরব-আশুগঞ্জ রুটে চলাচলকারী কয়েক শত বাইক চালক। চাহিদা অনুযায়ী তেল না পাওয়ায় প্রায় তিন শতাধিক মোটরসাইকেল চালক তাদের পরিবার নিয়ে অর্থ কষ্টে পড়তে হচ্ছে। অপরদিকে ভৈরবে প্রায় ২৫০ জন বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির রিপ্রেজেন্টেটিভরা বিপাকে রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সরেজমিনে দেখা যায়, ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের পানাউল্লাহচর এলাকায় মোল্লা ফিলিং স্টেশন ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের লক্ষ্মীপুর এলাকায় মিন্টু মিয়া ফিলিং স্টেশনের পাম্পে তেল সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে, ভৈরবের ভাই-ভাই ফিলিং স্টেশনে প্রশাসনের তদারকিতে নির্দিষ্ট পরিমাণে তেল দেওয়া হচ্ছে। তবে নিবন্ধনবিহীন বাইকারদের তেল মিলছে না। নিবন্ধিত বাইকারদেরও দেড় থেকে দুই ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে জ্বালানি তেল নিতে হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভৈরব শহরে প্রায় ৩ হাজার বাইক চালক রয়েছেন, যাদের মধ্যে ২ হাজার মোটর বাইকার নিবন্ধিত। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন যে, নিবন্ধনবিহীন চালকদের তেল দেওয়া বন্ধ থাকবে। এতে সড়কে চলাচলকারী নিবন্ধনবিহীন চালকরা বিপাকে পড়েছেন। বাইকাররা জানান, ভৈরব থেকে আশুগঞ্জ রাইড শেয়ারের মাধ্যমে প্রায় ৩ শতাধিক মোটরসাইকেল চালক ও তাদের পরিবার জীবিকা নির্বাহ করেন। এছাড়া ভৈরবের বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির প্রায় ২৫০ জন রিপ্রেজেন্টেটিভ রয়েছেন। ভৈরবের তিনটি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে প্রতিদিনই কোনো না কোনো পাম্প বন্ধ থাকে। যে পাম্পে তেল দেয়, সেই পাম্পে স্থানীয়দের তেল দিতে হিমশিম খেতে হয়। কিন্তু পাম্পগুলোতে ভৈরবের আশপাশের উপজেলার কয়েক শতাধিক মোটরসাইকেল এসে ভিড় করে এবং তারা চাহিদার চেয়ে বেশি তেল নিয়ে যায়।

বাইক চালক সেলিম মিয়া বলেন, "আমরা ভৈরবের প্রায় ৩ শতাধিক বাইক চালক চাহিদামতো জ্বালানি পাচ্ছি না। আমাদের চাহিদা অন্তত ৫০০ টাকার তেল, কিন্তু আমরা যখন যাই তখন ২০০ টাকার তেল পাই। তেল আনতে গেলেও ২ থেকে ৩ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের পরিবার নিয়ে আর্থিক সংকটে পড়তে হবে।"

ভৈরব মডেল ফারিয়ার আহ্বায়ক এইচ এম লোকমান হুদা বলেন, "ভৈরবে ২৫০ জন বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির রিপ্রেজেন্টেটিভ রয়েছেন। ভৈরবের পাম্পগুলোতে জ্বালানি সংকটের কারণে ভৈরব শহরে রিপ্রেজেন্টেটিভরা তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না। উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর আমরা ফারিয়ার পক্ষ থেকে আবেদন করেছি যেন দ্রুত সময়ের মধ্যে রিপ্রেজেন্টেটিভদের তেল সংকট দূর করা হয়।"

এ বিষয়ে ভৈরব ভাই ভাই পাম্পের কর্মচারী সাইফুল ইসলাম বলেন, "তেল না থাকায় 'আমাদের পাম্পে পেট্রোল ও অকটেন নেই' লেখা ব্যানার পাম্পের দেওয়ালে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। যখন তেল আসবে তখন লেখা সরিয়ে চালকদের তেল দেওয়া হবে। উপজেলা প্রশাসন থেকে নিবন্ধনবিহীন মোটরসাইকেলে তেল দিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। প্রশাসনের উপস্থিতিতে চালকদের তেল দেওয়া হবে।"

উপজেলা নির্বাহী অফিসার কেএম মামুনুর রশীদ বলেন, "সরকারের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে নিবন্ধনবিহীন চালকদের তেল দেওয়া। ভৈরবের মানুষ যেন তেল পায় সেদিকে আমাদের প্রশাসনের নজরদারি রয়েছে। ভৈরবের যেন কোনো অসাধু ব্যবসায়ী জ্বালানি তেল মজুত করতে না পারে সেদিকেও প্রশাসনের তৎপরতা রয়েছে।"

Link copied!