ছাগলকাণ্ডের মতিউরের ঘনিষ্ঠ আরজিনার অবৈধ সম্পদের পাহাড়

মারুফ বিল্লাহ , স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ১০ জানুয়ারী, ২০২৬, ১১:৪৪ পিএম

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মূসক মনিটরিং, পরিসংখ্যান ও সমন্বয় শাখার দ্বিতীয় সচিব আরজিনা খাতুনের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের উপকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ঘুষ, চোরাচালান ও অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে তিনি শত কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন।

রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার তালুকপাড়া গ্রামের দিনমজুর আহমেদ আলীর মেয়ে আরজিনা খাতুনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিস্তারিত অভিযোগ গত ১০ জুন দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) দাখিল করেন তার সাবেক স্বামী ইসতিয়াক আহমেদ রেজা। অভিযোগের একটি কপি দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের হাতে এসেছে।

দুদকে দাখিল করা অভিযোগে বলা হয়েছে, আমদানি পণ্য খালাসের নামে ব্যবসায়ী ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের কাছ থেকে নিয়মিত মোটা অঙ্কের ঘুষ আদায় করতেন আরজিনা। অনেক ক্ষেত্রে কাজ না করেও ঘুষের টাকা ফেরত দিতেন না। একই সঙ্গে স্বর্ণ চোরাকারবারিদের সঙ্গে যোগসাজশে তিনি প্রায় ৬ কোটি টাকার স্বর্ণ হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, মাত্র তিন বছরে তিনি ৫০০ ভরি স্বর্ণালঙ্কারের মালিক হন। এর মধ্যে অন্তত ২০০ ভরি স্বর্ণ চোরাচালানের মাধ্যমে আনা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এসব স্বর্ণ দেশের বিভিন্ন ব্যাংকের লকারে ও দোকানে বন্ধক রাখা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ঢাকার মিরপুরে একটি ফ্ল্যাট ২ কোটি টাকায় কিনলেও চুক্তিনামায় মূল্য দেখানো হয়েছে ১ কোটি ২১ লাখ টাকা। ফ্ল্যাটের ইন্টেরিয়র, ফার্নিচার ও ইলেকট্রনিক সামগ্রীতে অতিরিক্ত ব্যয় করা হয়েছে প্রায় ৬০ লাখ টাকা। এছাড়া তার নিজস্ব প্রাইভেটকার সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান ‘আনবি লজিস্টিক লিমিটেড’-এর নামে রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে, যা ঘুষ লেনদেনের অংশ বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

গ্রামের বাড়িতে ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে আলিশান বাড়ি। ফার্নিচার ও ইলেকট্রনিক সামগ্রীতে ব্যয় হয়েছে আরও অন্তত ৩৫ লাখ টাকা। অভিযোগ রয়েছে, আরজিনা তার বাবা-মা ও দুই ছোট ভাইয়ের নামে প্রায় ৪০ বিঘা জমি কিনেছেন, যার একটি বড় অংশ বর্তমানে বন্ধক রাখা।

চট্টগ্রাম কাস্টমসে কর্মরত থাকাকালে তার ঘুষের অর্থ লেনদেনের বাহক হিসেবে বন্ধু আবু তাহের, পিয়ন মো. ইলিয়াস ও গাড়িচালক শাহজাহান আকতার কাজ করতেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের তথ্যও অভিযোগে সংযুক্ত রয়েছে।

সরেজমিনে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দির তালুকপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, একসময়কার টিনের ঘরের স্থলে এখন গড়ে উঠেছে আলিশান বাড়ি। স্থানীয়রা জানান, দিনমজুর পরিবারের মেয়ে হয়েও আরজিনা অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন, যা এলাকায় বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে।

অভিযোগ প্রসঙ্গে আরজিনা খাতুন মোবাইল ফোনে বলেন, “আমি দুদকের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তারা সবকিছু খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেবেন। আমি যদি অন্যায় করে থাকি, শাস্তি পাব। তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও কাল্পনিক। ডিভোর্সের পর আমার সাবেক স্বামী এসব অভিযোগ দিচ্ছেন।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুদকের এক কর্মকর্তা জানান, অভিযোগের অনুলিপি আরজিনাকে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত না হলেও প্রাথমিকভাবে তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।

Link copied!