পূর্ণমিলনীতে হাসনাত আব্দুল্লাহ পেলেন ১৪ লাখ টাকা উপহার

তোফায়েল আহমেদ , দেবিদ্বার (কুমিল্লা) সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ৩১ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৮:২৬ পিএম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহকে তার স্কুলজীবনের বন্ধুদের পক্ষ থেকে ১৪ লাখ টাকা উপহার দেওয়া হয়েছে। দেবিদ্বার রেয়াজ উদ্দিন পাইলট মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০১৪ ব্যাচের উদ্যোগে আয়োজিত এক পূর্ণমিলনী অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এই অর্থ তুলে দেওয়া হয়।

শনিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে প্রবাসে অবস্থানরত ও দেশে থাকা ২০১৪ ব্যাচের বন্ধুরা সম্মিলিতভাবে অর্থ সহযোগিতা করেন। আয়োজনে অংশ নেন সরকারের সাকিব, আহম্মেদ শুভ, মহতাদির যারিফ সিক্তসহ একই ব্যাচের বহু শিক্ষার্থী। পাশাপাশি দেবিদ্বার উপজেলার বিভিন্ন স্কুলের ২০১৪ ব্যাচের বন্ধুরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

পূর্ণমিলনীতে বক্তব্য রাখেন আল-আমিন, সিক্ত, সাইফুল, ফয়সাল, সাকিবুল ইসলাম, সাগর, শুভ, শাহিন, আশরাফুল, আজিমসহ আরও অনেকে। বক্তারা বলেন, এই অনুদান শুধুমাত্র আর্থিক সহায়তা নয়—এটি বন্ধুত্ব, পারস্পরিক আস্থা ও ভালোবাসার এক উজ্জ্বল নিদর্শন। তারা আশা প্রকাশ করেন, হাসনাত আব্দুল্লাহ নির্বাচিত হলে দেবিদ্বারের উন্নয়ন ও জনকল্যাণে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, দেবিদ্বারে তিনি স্বচ্ছতা, স্পষ্টতা ও জবাবদিহিতামূলক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চান।

তিনি বলেন, "দিনশেষে আমি যে রাজনীতিই করি না কেন, সবাই আমার রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে একমত নাও হতে পারেন। তবে একটি বিষয়ে আমি শতভাগ নিশ্চয়তা দিতে পারি—স্বচ্ছতা, স্পষ্টতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্নে আপনারা আমাকে সবসময় দৃঢ় ও পরিষ্কার অবস্থানে পাবেন।"

নিজের শিকড়ের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেবিদ্বারের মাটিতেই তার বেড়ে ওঠা। এখানকার মানুষ, রাস্তাঘাট ও বাস্তবতা তিনি খুব কাছ থেকে দেখেছেন। স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে বাস্তবভিত্তিক ও ইতিবাচক পরিবর্তন আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, "আমার জায়গা থেকে দেবিদ্বারকে দেওয়ার মতো অনেক কিছুই আছে। তবে সে জন্য দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।"

অতীতে তাকে নিয়ে হওয়া নানা সমালোচনা ও কটূক্তির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, তাকে বলা হয়েছিল তিনি উল্লেখযোগ্য ভোটও পাবেন না, এমনকি তার বিরুদ্ধে জুতা মিছিলও হয়েছে।

তিনি বলেন, "আমাকে বলা হয়েছিল আমার কোনো বংশপরিচয় নেই। কিন্তু আমার বিশ্বাস ছিল—রেয়াজ উদ্দিন পাইলট স্কুলের বন্ধুরা যদি আমার পাশে দাঁড়ায়, তাহলে আর কাউকে খুঁজতে হবে না।" এ সময় তিনি রেয়াজ উদ্দিন পাইলট মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৯৬৪ সাল থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং তাদের ভালোবাসার প্রতিদান জনকল্যাণমূলক কাজের মাধ্যমেই দিতে চান বলে জানান।

দেবিদ্বারকে মাদক, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসমুক্ত জনপদ হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, "আমরা পরিবারতন্ত্রের বাইরে যোগ্যতা ও সততার ভিত্তিতে নেতৃত্ব চাই। যে-ই হোক, যদি তার মেধা, দক্ষতা ও মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকে—দেবিদ্বারের মানুষ তাকে গ্রহণ করবে।"

সবশেষে তিনি বলেন, ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মধ্য দিয়েই একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও উন্নত দেবিদ্বার গড়া সম্ভব—ইনশাআল্লাহ।

Advertisement

Link copied!