ময়মনসিংহের গৌরীপুরে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন না করায় এক বিএনপি নেতাকে প্রকাশ্যে মাথা ন্যাড়া করে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কৃষকদল নেতার বিরুদ্ধে। বুধবার দুপুর ২টায় পৌর শহরের ২ নম্বর রেলক্রসিং সংলগ্ন নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
অভিযোগে বলা হয়, ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) আসনে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে নির্বাচন না করে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ঘোড়া মার্কার পক্ষে কাজ করায় উপজেলা বিএনপি নেতা আব্দুল মান্নান তালুকদারকে টেনেহিঁচড়ে সিএনজি থেকে নামিয়ে মারধর করা হয় এবং পরে পাশের একটি সেলুনে নিয়ে জোরপূর্বক তার মাথার চুল কেটে ন্যাড়া করে দেওয়া হয়। এমনকি তার চোখের ওপরের ভ্রুও কেটে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।
ভুক্তভোগী আব্দুল মান্নান তালুকদার জানান, দুপুর আনুমানিক ২টা ১৫ মিনিটে তিনি ব্যক্তিগত কাজে সিএনজি যোগে গৌরীপুর থেকে ময়মনসিংহে যাচ্ছিলেন। গৌরীপুর পৌরসভা সংলগ্ন রেলক্রসিং পার হয়ে নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে পৌর কৃষক দলের সভাপতি কাজিয়েল হাজাত শাহী মুন্সি তাকে দেখে সিএনজি থামিয়ে টেনেহিঁচড়ে নামান। এরপর অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও শারীরিক নির্যাতনের পর পাশের একটি সেলুনে নিয়ে গিয়ে জোর করে মাথা ন্যাড়া করা হয়।
তিনি আরও বলেন, আমরা দীর্ঘ ১৭ বছর আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। কিন্তু এমন অপমানজনক নির্যাতনের শিকার কখনো হইনি। আমার একমাত্র ‘অপরাধ’ ছিল আমি ঘোড়া মার্কায় নির্বাচন করেছি। অথচ গৌরীপুরে ধানের শীষ বিজয়ী হয়েছে, তিনি এখন প্রতিমন্ত্রী। তারপরও আমাকে এভাবে লাঞ্ছিত হতে হলো। আমি এ ঘটনার ন্যায্য বিচার চাই।
ঘটনার ছবি পরে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে তা ভাইরাল হয়। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী আহাম্মদ তায়েবুর রহমান লেখেন, “এ বর্বরতার শেষ কোথায়?”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গৌরীপুর পৌর কৃষক দলের সভাপতি কাজিয়েল হাজাত শাহী মুন্সি। তিনি দাবি করেন, আমি এমন কোনো ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই। এটি সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্রমূলক। যারা ঘোড়া মার্কায় নির্বাচন করেছে, এখন মানুষের সমালোচনার মুখে পড়ে আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমাদের সুনাম নষ্ট করতেই এ মিথ্যা-বানোয়াট অভিযোগ আনা হয়েছে।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ জেলা কৃষক দলের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট আবুল বাশার আকন্দ বলেন, ঘটনার কথা শুনেছি। অভিযুক্ত শাহী মুন্সির সঙ্গে কথা বলেছি, তিনি ঘটনার সত্যতা অস্বীকার করেছেন। বিষয়টি কেন্দ্রীয় কমিটিকে জানানো হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা মিললে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাটি রাজনৈতিক সহনশীলতা ও দলীয় শৃঙ্খলা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
আপনার মতামত লিখুন :