ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার একটি প্রাচীন বিদ্যাপীঠে সেনাবাহিনীর অস্থায়ী ক্যাম্প প্রত্যাহারের পর ভবনটিতে ব্যাপক ভাঙচুর ও চুরির অভিযোগ উঠেছে। দুর্বৃত্তদের তান্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিদ্যালয়টির বেশ কয়েকটি শ্রেণিকক্ষ ও আসবাবপত্র।
গত শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই বিদ্যালয়ের কক্ষগুলোর লণ্ডভণ্ড অবস্থা, ভাঙচুর ও মালামাল চুরির ছবি ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে মুহূর্তেই এলাকায় তীব্র সমালোচনা ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে গৌরীপুর আর.কে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবনে সেনাবাহিনীর একটি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছিল। দীর্ঘ ১৮ মাস পর গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সকালে ক্যাম্পটি সেখান থেকে প্রত্যাহার করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, ক্যাম্প প্রত্যাহারের দুই দিনের মাথায় গত শুক্রবার ভবনের বিভিন্ন কক্ষ থেকে ফ্যান, আইপিএস ও পানির ট্যাংকসহ মূল্যবান সরঞ্জাম চুরি হয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, ক্যাম্প প্রত্যাহারের পর প্রথমে পৌরসভার কয়েকজন কর্মচারী ভবনে প্রবেশ করে কিছু সরঞ্জাম নিয়ে যান। পরবর্তীতে একদল দুর্বৃত্ত ভবনে ঢুকে একাধিক আলমারি ভেঙে ফেলে এবং বৈদ্যুতিক ফ্যানসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর ও লুটপাট করে।
বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আলম বদরুল সোহেল তার ফেসবুক পোস্টে আবেগঘন বার্তায় লিখেছেন, “এই বিদ্যালয় কেবল ইট-পাথরের গাঁথুনি নয়; এটি গৌরীপুরের আত্মা, আমাদের শৈশবের স্মৃতি ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের আলোকবর্তিকা। আসুন, আমরা সবাই মিলে এর পাশে দাঁড়াই—ধ্বংস নয়, পুনর্জাগরণের ইতিহাস লিখি।”
এ বিষয়ে গৌরীপুর পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুনন্দা সরকার প্রমা জানান, “ক্যাম্প স্থাপনের সময় কিছু মালামাল পৌরসভা থেকে সরবরাহ করা হয়েছিল। ক্যাম্প প্রত্যাহারের পর সেই মালামালগুলোই পৌরসভার কর্মচারীরা নিয়ে এসেছেন। তবে পরবর্তীতে ভাঙচুর বা চুরির বিষয়ে আমি অবগত নই। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফিয়া আমীন পাপ্পা বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি আমি অবগত হয়েছি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”
আপনার মতামত লিখুন :