গাজীপুরে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন হত্যা মামলায় বিচারিক কার্যক্রমে নতুন গতি সঞ্চার হয়েছে। চার্জ গঠনের অল্প সময়ের মধ্যেই দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফায় ধারাবাহিক সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ায় দ্রুত বিচারের পথে মামলাটি দৃশ্যমান অগ্রগতির দিকে এগোচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রোববার (১ মার্চ) গাজীপুর মহানগর দায়রা জজ আদালত-এ মামলার তৃতীয় দফার সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এদিন নিহত সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনের ভাতিজা সোহাগ সুরতহাল সাক্ষী হিসেবে আদালতে জবানবন্দি দেন। এর আগে মামলার বাদী ও তুহিনের বড় ভাই সেলিম এবং একজন পুলিশ সদস্যের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।
মামলার আইনজীবী প্রশান্ত চন্দ্র সরকার বলেন, “চার্জ গঠনের পর ধারাবাহিক সাক্ষ্যগ্রহণ প্রমাণ করে—মামলাটি দ্রুত বিচারিক নিষ্পত্তির দিকেই এগোচ্ছে।” তাঁর ভাষ্য, তৃতীয় দফার সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হওয়া বিচার প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
এদিন আদালতে হাজির করা হয় মামলার প্রধান অভিযুক্ত কেটু মিজান, তার স্ত্রী গোলাপিসহ সকল আসামিকে। প্রিজন ভ্যান থেকে নামার সময় কেটু মিজান হত্যাকাণ্ড নিয়ে চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেন, যা আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিতদের মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয়। কেটু মিজান বলতে থাকেন"আমার টার্গেট ছিল বাদশাসহ আরও একজন কিন্তু সাংবাদিক তুহিন সেই দৃশ্যের ভিডিও করতে ছিল তাই তাকে আগে শেষ করে দিই, এরই মধ্যে আমার গোলাপি কারাগারে একটি ছেলে সন্তান প্রসব করে কিন্তু তাকে বাঁচানো যায়নি"।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৭ আগস্ট গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তার মাঝখানে প্রকাশ্য দিবালোকে সংঘটিত এ নৃশংস হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন তোলে। সাংবাদিক মহল শুরু থেকেই দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে আসছে।
দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের সম্পাদক ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান খায়রুল আলম রফিক সাক্ষ্যগ্রহণ চলাকালে আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, “গত ৫৪ বছরে ৬৯ জন সাংবাদিক নিহত হলেও অধিকাংশ হত্যার বিচার হয়নি। তুহিন হত্যার বিচার সম্পন্ন হলে এটি হবে দেশের সাংবাদিকতা ইতিহাসে একটি দৃষ্টান্তমূলক নজির।”
মামলার বাদী সেলিম বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ধারাবাহিক সাক্ষ্যগ্রহণ তাদের পরিবারকে আশার আলো দেখাচ্ছে। “আমরা চাই দ্রুত ও ন্যায়সঙ্গত বিচার,”—যোগ করেন তিনি।
সাংবাদিক নেতাদের মতে, এ মামলায় নিয়মিত শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শুধু একটি হত্যাকাণ্ডের বিচার নয়; এটি সাংবাদিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের একটি শক্ত বার্তা। তুহিন হত্যার বিচার সম্পন্ন হলে তা হবে সত্য ও ন্যায়বিচারের পক্ষে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক।
আপনার মতামত লিখুন :