এককালের ঐতিহ্যবাহী তেল জাতীয় ফসল কুসুম ফুল আজ বিলুপ্তির পথে। অতীতে বাংলার ঘরে ঘরে কুসুম তেলের কদর ছিল অপরিসীম। মাছ, মাংস, তরকারি এবং বিভিন্ন ভাজা পোড়া তৈরিতে কুসুম তেল ব্যবহৃত হতো, এমনকি গোসলের পর গায়েও মাখা হতো।
গোয়ালন্দ উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের প্রবীণ কৃষক মজিবর, কাদের, আরশাদ, হাবিসহ অনেকেই জানান, অতীতে মহিলারা ঢেঁকিতে কুসুম পিষে আগুন জ্বালিয়ে তেল বের করতেন। এখন কুসুম ফুলও নেই, তার তেলও নেই। তেল ছাড়াও কুসুম দিয়ে যাউ, পায়েস সহ বিভিন্ন পুষ্টিকর খাবার তৈরি হতো, যা কৃষাণদের দুপুরের খাবারেও দেওয়া হতো।
উপজেলার রিয়াজুদ্দিন পাড়ার কৃষক বিল্লাল শেখ স্মৃতিচারণ করে বলেন, ছোটবেলায় দেখতেন বাপ-দাদারা অন্য ফসলের আইলের চারদিকে কুসুম বীজ বপন করতেন। যখন ফুল ফুটতো, তখন তা দেখতে খুবই সুন্দর লাগতো। একই এলাকার এক বৃদ্ধা মহিলা জানান, কুসুমের কচি পাতা দিয়ে তৈরি শাক খেতে অনেক মজাদার ছিল।
কৃষক বিল্লাল শেখ এ বছর ১৪ শতাংশ জমিতে কুসুম ফুল চাষ করেছেন। তিনি জানান, কৃষকেরা আগের মতো কুসুম চাষ করেন না। অন্য কৃষকদের মতে, কুসুমের ফলন ভালো হলে প্রতি একরে ১৮-২০ মণ পাওয়া যায় এবং এর খরচও কম।
গোয়ালন্দ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দ রায়হানুল হায়দার বলেন, বর্তমানে কৃষকেরা কুসুম চাষে তেমন আগ্রহী নন। যদি কেউ চাষ করেন, তা মূলত পাখি ও গবাদিপশুর খাদ্য হিসাবে ব্যবহৃত হয়। তিনি আরও জানান, এ বছর গোয়ালন্দ উপজেলার ৪টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় মোট ৪০ হেক্টর জমিতে কুসুম ফুল চাষ হয়েছে। কুসুম তেল, পায়েস এবং যাউ অনেক পুষ্টিকর। সরিষা তেলের পাশাপাশি কুসুম তেলেরও কোনো বিকল্প নেই। দেশে তেলের ঘাটতি পূরণে এবং তেলের উৎপাদন বাড়াতে কুসুম ফুল চাষের বিকল্প নেই। সকল কৃষকদের কুসুম ফুল চাষে আগ্রহী করে তোলা উচিত বলে তিনি মনে করেন।
আপনার মতামত লিখুন :