বিদ্যালয়ের মাঠ দখল করে অবৈধ মার্কেট নির্মাণের অভিযোগে মানববন্ধন

রানা আহমেদ , নীলফামারী জেলা সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ০১ মার্চ, ২০২৬, ০৭:৪৩ পিএম

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে অবৈধভাবে মার্কেট নির্মাণের অভিযোগে শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অংশগ্রহণে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে দেড় শতাধিক এলাকাবাসী অংশ নেন। কিশোরগঞ্জ বহুমুখী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ উপেক্ষা করে মাঠের একটি অংশ দখল করে অবৈধভাবে মার্কেট নির্মাণের কাজ চলছে। বিষয়টি একাধিকবার বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও নির্মাণকাজ বন্ধ করা হয়নি।

বক্তাদের দাবি, বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলামসহ কয়েকজন শিক্ষক পরস্পর যোগসাজশে এই নির্মাণকাজে যুক্ত রয়েছেন। অবিলম্বে নির্মাণকাজ বন্ধ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

বক্তারা আরও জানান, ২০২১ সালেও একই স্থানে মার্কেট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলে এলাকাবাসীর মানববন্ধনের মুখে সংশ্লিষ্টরা মুচলেকা দিয়ে কাজ বন্ধ করেছিলেন। কিন্তু সেই অঙ্গীকার ভঙ্গ করে পুনরায় বিদ্যালয়ের মাঠে নির্মাণকাজ শুরু করা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন তারা।

এসময় উপজেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ওবায়দুর রহমান বলেন, "বিদ্যালয়ে বর্তমানে নানামুখী অনিয়ম ও দুর্নীতি চলছে। ভর্তি কার্যক্রম থেকে শুরু করে মাসিক পরীক্ষা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া এসব অর্থের কোনো স্বচ্ছ হিসাব নেই। এছাড়া বিদ্যালয়ের মাঠে থাকা কয়েকটি ফলজ গাছ কেটে বিক্রি করা হয়েছে এবং বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের দোকানগুলোর জামানত ও ভাড়া তুলে তা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।" তিনি অবিলম্বে নির্মাণকাজ বন্ধসহ দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম আজম বলেন, "আগামী ৩ তারিখে আমি দায়িত্ব থেকে বিদায় নিচ্ছি। সহকারী প্রধান শিক্ষক ও কয়েকজন শিক্ষক মিলে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন।"

এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি তানজিমা আঞ্জুম সোহানিয়া বলেন, বিদ্যালয়ের মাঠে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ না হলে বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে যাবে, যা শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

Link copied!