বাঁশের খুঁটি আর পাটকাঠির সমন্বয়ে তৈরি মাচানে লতিয়ে আছে সবুজের সমারোহ। সেই সবুজ পাতার ফাঁকে লাল টুকটুকে পাকা টমেটো জানান দিচ্ছে নিজের অবস্থান। ঘামে ভেজা শরীরে ক্লান্ত কৃষকের ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটছে মাচানে ঝুলতে থাকা থোকা থোকা টমেটো দেখে। চলতি রমজান মাসে বাজার ভালো, তাই লাভের ঝুলিতেও উঠবে বাড়তি আয়। সেই আশাতেই দিনরাত এক করে ফসলের মাঠে শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন কৃষক।
ঈশ্বরদী উপজেলার বাঘহাছলা মাঠে মাচানে টমেটো চাষ করা কৃষক আসলাম জানান, বছর জুড়েই প্রায় ২৫ বিঘা জমিতে কৃষি আবাদ করেন তিনি। টমেটো, শিম, বরবটি, ঢেঁড়স, বাঁধাকপি, ফুলকপি, ধানসহ প্রায় সকল প্রকার চাষবাসই করেন তিনি। প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও প্রায় ৫০ শতাংশ জমিতে মাচান পদ্ধতিতে টমেটো চাষ করেছেন তিনি। এ পদ্ধতিতে টমেটো চাষে প্রতি বিঘা জমিতে খরচ হয় (চারা রোপণ থেকে মাড়াই পর্যন্ত) প্রায় পঁচাত্তর থেকে আশি হাজার টাকা। মাচানে চাষ করার সুবিধার্থে টমেটো পেকে পচার সম্ভাবনাও থাকে কম। বাড়তি পরিচর্যার তেমন প্রয়োজন হয় না বলে ফলন বৃদ্ধি পায়। বর্তমান বাজারে প্রতি মণ টমেটোর মূল্য প্রায় ১৫০০ টাকা। ফলন ভালো হলে প্রতি বিঘা থেকে টমেটো মাড়াই করা যায় প্রায় ৬০০ মণ। সেই লক্ষ্যে এ বছর বিঘা প্রতি প্রায় ৯ লক্ষ টাকার টমেটো বিক্রি করার আশার কথা জানিয়েছেন কৃষক আসলাম।
তিনি আরও জানান, ঈশ্বরদী উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে চাষ করা হয় টমেটো। এতে দেশীয় জাতের পাশাপাশি হাইব্রিড জাতের মধ্যে রয়েছে, বিজলি ১১, সুলতান সলেমান, মিন্টু সুপার, ভিএল, হিটলার, মেটাল, রতন ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। তবে অত্যন্ত সুস্বাদু আর উচ্চ ফলনশীল হওয়ায় তিনি হাইব্রিড বিজলী ১১ ও সুলতান সলেমান জাতের টমেটোর চাষ করেছেন।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদাসীনতার প্রতি অভিযোগ এনে এই কৃষক জানান, আমরা সারা বছর কৃষিকাজের সাথেই থাকি। তবুও কৃষি অফিসাররা আমাদের কোনো প্রকার সহযোগিতা করেন না। যোগাযোগ করলেও নানা অজুহাতে আমাদের ফিরিয়ে দেন। তাদের থেকে সহযোগিতা পেলে কৃষিকে আরও আধুনিক এবং উচ্চ ফলনশীল জাতের চাষ করা সম্ভব। যা দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি করা সম্ভব।
জানতে চাইলে ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আব্দুল মোমিন বলেন, এখন প্রায় কৃষকই মাচা পদ্ধতিতেই টমেটোর চাষ করে থাকেন। এতে করে পানি সেচ, সার ও কীটনাশক প্রয়োগ সহজ হয়। পোকা মাকড়ের হাত থেকে রক্ষা পায় বলে ফলন হয় দ্বিগুণ। এ বছর প্রায় ৬০ হেক্টর জমিতে টমেটোর চাষ করা হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী তা পূরণও হয়েছে। বাজারে টমেটোর দাম ভালো থাকায় এবার কৃষকরা লাভবান হবেন বলে আশা করছি। তবে কৃষকদের অসহযোগিতার বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি আরও বলেন, আমরা মাঠ পর্যায়ে প্রায় সব কৃষকের সাথেই সম্পৃক্ততা রাখি। দু-একজন হয়তোবা বাদ যেতে পারে। তবে তারা কোনো সহযোগিতা চাইলে আমরা দেইনি এমন অভিযোগ সঠিক নয়।
আপনার মতামত লিখুন :