মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় খাদ্য নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে মোট আড়াই লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
মঙ্গলবার উপজেলার বিভিন্ন স্থানে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পরিচালিত এ অভিযানে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং শ্রীমঙ্গল পৌরসভার কর্মকর্তারা অংশ নেন।
অভিযান চলাকালে শহরের রোদ মিষ্টান্ন ভান্ডারে জিলাপি তৈরিতে ক্ষতিকর হাইড্রো কেমিক্যাল ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া খাদ্য প্রস্তুত, সংরক্ষণ ও পরিবেশনে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে নুর ফুডস রেস্টুরেন্ট, লন্ডন রেস্টুরেন্ট, রিজিক রেস্টুরেন্ট এবং পানসী রেস্টুরেন্টকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। সব মিলিয়ে মোট ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আহমেদ সাব্বির সাজ্জাদ এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফয়সাল ইবনে ইদ্রিস।
অভিযানের সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো. শাকিব হোসাইন, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আল আমীন এবং শ্রীমঙ্গল পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম। প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ও দায়িত্বপ্রাপ্ত নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক বিনয় সিংহ।
এ বিষয়ে নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো. শাকিব হোসাইন বলেন, "জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। অনেক সময় কিছু প্রতিষ্ঠান অজ্ঞতা বা অসচেতনতার কারণে খাদ্য নিরাপত্তা বিধিমালা না মেনে খাদ্য প্রস্তুত ও বিক্রি করে থাকে, যা ভোক্তাদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হতে পারে। বিশেষ করে মিষ্টি ও ভাজাপোড়া জাতীয় খাবারে ক্ষতিকর রাসায়নিক বা অননুমোদিত উপাদান ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে আইনবিরোধী।"
তিনি আরও বলেন, "ভোক্তাদের নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ নিয়মিতভাবে বাজার তদারকি ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, খাদ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ ও পরিবেশনের ক্ষেত্রে অবশ্যই স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রাখতে হবে এবং খাদ্য নিরাপত্তা আইন কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। অন্যথায় জনস্বার্থে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ভোক্তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং বাজারে নিরাপদ খাদ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের আইন মেনে চলার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :