সাংবাদিক শামসুল আলম শাহীনের মায়ের ইন্তেকাল

জামাল উদ্দিন , কিশোরগঞ্জ জেলা সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ২৭ মার্চ, ২০২৬, ০২:৪৩ পিএম

কিশোরগঞ্জ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাবের সদস্য, দৈনিক ডেসটিনি পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি ও স্থানীয় পত্রিকা দৈনিক শতাব্দীর কণ্ঠের মফস্বল সম্পাদক শামসুল আলম শাহীনের মাতা, অবসরপ্রাপ্ত শরীরচর্চা শিক্ষিকা শামছুন্নাহার (৭৭) ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টা ২০ মিনিটে কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের নগুয়া এলাকার নিজ বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি দীর্ঘ দিন ধরে নানা জটিল রোগে আক্রান্ত ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, এক মেয়ে, নাতি-নাতনী ও আত্মীয়স্বজনসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

শুক্রবার বাদ জুম্মা জেলার পাকুন্দিয়া পৌরসভার শ্রীরামদী ফকির পাড়া জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে মরহুমার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে শ্রীরামদী ফকির পাড়ার পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

সাংবাদিক শামসুল আলম শাহীনের মাতার মৃত্যুতে কিশোরগঞ্জ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাবের সভাপতি আশরাফুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মো. আল আমিন সংগঠনের পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এক শোকবার্তায় নেতৃবৃন্দ মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, পিতার চাকরির সুবাদে শামছুন্নাহার ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈত্রিক বাড়ি কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার স্বল্পমরিয়া গ্রামে। পিতা মরহুম আব্দুল মান্নান একজন কৃষি কর্মকর্তা (শোলাকিয়া এগ্রিকালচার ফার্মের সুপারিনটেনডেন্ট) ছিলেন। মা মরহুমা মেহেরুননেছা ময়না গৃহিণী ছিলেন। তিন বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে শামছুন্নাহার ছিলেন দ্বিতীয়।

শামছুন্নাহার এইচএসসি পাশ করে জেডিসি (শরীরচর্চা শিক্ষিকা) হিসেবে ১৯৬৮ সনে তৎকালীন শ্যামসুন্দর আখড়ায় অবস্থিত কিশোরগঞ্জ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে শরীরচর্চা শিক্ষিকা হিসাবে যোগদান করেন। পরে আখড়াবাজারে স্থানান্তরিত হওয়ার পর ১৯৮০ সাল পর্যন্ত দক্ষতার সাথে শরীরচর্চা শিক্ষিকা হিসাবে দায়িত্ব পালন করে গেছেন।

শিক্ষকতা জীবনে শামছুন্নাহার জাতীয় পর্যায়ে মেয়েদের ভলিবল, ব্যাডমিন্টন, বৌ ছি, এ্যাথলেটিকসসহ বিভিন্ন খেলাধুলায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে কিশোরগঞ্জের সুনাম অক্ষুণ্ণ রেখেছেন।

পরে ১৯৮০ সালের শেষের দিকে বাজিতপুরের জহুরুল ইসলাম তার স্কুল বাজিতপুর রাজ্জাকুন্নেছা পাইলট বালিকা বিদ্যালয়ে সম্মানের সহিত তাকে নিয়ে যান। সেখানে গিয়েও কাজের দক্ষতায় জেলাকে পেছনে ফেলে বাজিতপুরের সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখতে আপ্রাণ চেষ্টা করতে শুরু করেন। একসময় সাফল্যের মুখ দেখতে শুরু করলেন।

শামছুন্নাহার খেলাধুলায় যেমন পারদর্শী ছিলেন তেমন গার্লস গাইডের কর্মকাণ্ডেও দক্ষ ছিলেন। উপজেলা, জেলা, বিভাগ ও জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যালয়ের সুনাম অক্ষুণ্ণ রেখেছেন। ১৯৯০ সালে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ গাইডার হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় তৎকালীন সরকারের প্রধান প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ গাইডারের পদক (ব্যাজ) পরিয়ে দেন। অবসর শেষেও শামছুন্নাহার অনেক স্কুলে শিক্ষকতা করেছেন।

তার মৃত্যুতে কিশোরগঞ্জবাসী খেলার জগতের একজন নিবেদিতপ্রাণ মানুষকে হারালেন। তিনি কর্মময় জীবন থেকে শুরু করে অবসর সময় পর্যন্ত দীর্ঘ দিন নানা জটিল রোগে আক্রান্ত ছিলেন।

Link copied!