ভাঙনের মুখে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি, বৈঠকের আগেই সংঘাতের শঙ্কা

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ০৪:১০ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি নতুন করে চাপের মুখে পড়েছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) পাকিস্তানে নির্ধারিত আলোচনার আগের দিন বৃহস্পতিবার এই উত্তেজনা আরও বেড়ে গেছে। ওয়াশিংটন অভিযোগ করেছে, হরমুজ প্রণালি বিষয়ে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে তেহরান। অন্যদিকে ইসরায়েল লেবাননে হামলা চালিয়েছে, যা ইরানের দাবি অনুযায়ী যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন।

দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর হরমুজ প্রণালিতে প্রায় সম্পূর্ণ অবরোধ তুলে নেওয়ার কোনও লক্ষণ দেখা যায়নি। এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বে ব্যবহৃত তেল ও এলএনজির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন হয়। যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন যেখানে প্রায় ১৪০টি জাহাজ চলাচল করত, যুদ্ধবিরতির প্রথম ২৪ ঘণ্টায় সেখানে মাত্র একটি তেলবাহী জাহাজ ও পাঁচটি শুকনো পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ইরান তেল চলাচল স্বাভাবিক করতে খুবই খারাপ কাজ করছে। তিনি বলেন, এটা আমাদের চুক্তি নয়। আরেক পোস্টে তিনি জানান, শিগগিরই তেল প্রবাহ স্বাভাবিক হবে, তবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র কী পদক্ষেপ নেবে তা তিনি স্পষ্ট করেননি।

এদিকে শুক্রবার ভোরে ইসরায়েলি বাহিনী জানায়, তারা লেবাননে ১০টি রকেট উৎক্ষেপণস্থলে হামলা চালিয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সেসব স্থান থেকে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলের দিকে রকেট ছোড়ে বলে জানা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দাবি, এই যুদ্ধবিরতিতে লেবানন অন্তর্ভুক্ত না। তবে ইরান ও মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান বলছে, লেবানন চুক্তির অংশ ছিল।

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেন, লেবাননসহ ইরানের আঞ্চলিক মিত্ররা যুদ্ধবিরতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, লেবাননে হামলার প্রতিশোধ নেওয়া হবে এবং ক্ষতিপূরণ দাবি করা হবে।

তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণ ও লেবাননের সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠা নিয়ে আলোচনা শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

লেবাননের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, বৃহত্তর আলোচনার সুযোগ তৈরিতে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির চেষ্টা চলছে। মার্কিন কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে লেবানন-ইসরায়েল আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে পারে।

যদিও হিজবুল্লাহর আইনপ্রণেতা আলি ফাইয়াদ বলেছেন, আগে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে হবে, অন্যথায় তারা ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় রাজি নন।

এরআগে মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের উদ্যোগে দুই সপ্তাহের এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এটি কার্যকর না হলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুতে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালাতে পারে বলে আগেই সতর্ক করেছিলেন ট্রাম্প।

ইরান ইতোমধ্যে একটি ১০ দফা প্রস্তাব দিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে, হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা। পারমাণবিক কর্মসূচির অধিকার স্বীকৃতি। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও লেবাননসহ সকল যুদ্ধের অবসান।

সূত্র : রয়টার্স

Link copied!