নেত্রকোণায় আদালতের নির্দেশ অমান্য করে ভূমি দখলের অভিযোগ

আসাদুজ্জামান তালুকদার , নেত্রকোণা জেলা সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ০৭:২৩ পিএম

নেত্রকোণা জেলার কলমাকান্দা উপজেলার বড়খাপন ইউনিয়নের রাজনগর গ্রামে কৃষক মো. নাজিম উদ্দিন নাজু মিয়ার জায়গার গাছ কাটা ও ভূমি দখলচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী চাঁন মিয়া, রাসেল গংদের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার (১২ এপ্রিল)।

কৃষক নাজিম উদ্দিন জানান, প্রতিবেশী চাঁন মালেক, রাসেল গংদের সঙ্গে তার জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে এবং এ বিষয়ে আদালতে মামলাও চলমান। তাদের রেকর্ডকৃত জায়গা তারা জোর করে দখল করতে চায়। বাধা দিলে হামলার শিকার হতে হয়। আইনউদ্দিনের কাছ থেকে মোল্লা হোসেন ২৭ বছর আগে জমিটি ক্রয় করেছিলেন, কিন্তু জমিটি অন্য জায়গায় বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘ ২৭ বছর পর সঠিক মাপ নেওয়ার পর তারা জানতে পারেন যে জমিটি আসলে তাদের।

এত বছর ধরে প্রতিবেশী পক্ষ জমিটি ভোগদখল করে আসছিল। সামাজিক দরবারের মাধ্যমে জমিটি দখলে নেওয়ার চেষ্টা করলে দরবারিরা প্রতিবেশী পক্ষকে এত বছর তাদের জায়গায় থাকার বিবেচনায় জমি কেনার প্রস্তাব দেন। কিন্তু তারা ন্যায্য মূল্য দিতে নারাজ এবং জোর করে থাকতে চান। এরপর তারা বিভিন্ন মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন। বর্তমানে জমিটিতে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে। নাজিম উদ্দিনরা আদালতের নির্দেশ মেনে সেখানে না গেলেও, প্রতিবেশী পক্ষ গাছগাছালি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। তিনি সঠিক তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার দাবি করেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত চাঁন মালেকের কাছে জানতে চাইলে রবিবার সন্ধ্যায় তিনি জানান যে, রেকর্ড তাদের থাকলেও তারা ৪০০ বছর যাবৎ দখল করে আছেন।

এলাকাবাসীরা জানান, একটি সংঘবদ্ধ চক্র স্থানীয় লাঠিয়াল বাহিনী ও রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে মালিকানা জমি জোরপূর্বক দখল করছে। শুধু দখলই নয়—আদালতের মাধ্যমে ভুয়া মামলা করে প্রকাশ্যে হয়রানি চলছে। ১৯৫৬ সালের রেকর্ড অনুযায়ী এই জমি ব্যক্তি মালিকানার অধীনে খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত।

অভিযোগকারীরা আরও জানান, প্রশাসনের কাছে একাধিকবার লিখিত ও মৌখিকভাবে অভিযোগ দেওয়া হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তা স্থায়ী সমাধান আনতে ব্যর্থ হয়েছে। বরং মামলা জটিলতা তৈরি করে দখলদাররা নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করছে।

Advertisement

Link copied!