জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবিপ্রবি) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগে সম্প্রতি প্রভাষক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ, অসন্তোষ ও অনাস্থার সৃষ্টি হয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নীতিমালা অনুসরণ না হওয়ার অভিযোগ তুলে বিভাগের শিক্ষার্থীরা নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
জানা যায়, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সিএসই বিভাগে প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ পান মো. মঈনুল হক। এই নিয়োগকে কেন্দ্র করে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। বিভাগীয় প্ল্যানিং কমিটির অনুমোদন না নেওয়া, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ডিগ্রিধারী ও প্রফেশনাল স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারীকে নিয়োগে প্রার্থীর একাডেমিক মান, মূল্যায়ন পদ্ধতি, নিয়মিত প্রোগ্রামের সাথে সামঞ্জস্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক (অনার্স) ডিগ্রি নেন সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত মো. মঈনুল ইসলাম। সংশ্লিষ্টরা জানান, নীতিমালা অনুযায়ী 'ইউজিসি স্বীকৃত যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়' উল্লেখ থাকলেও সাধারণত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রিধারীদের নেওয়ার নজির খুব বেশি নেই।
নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকের স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) ডিগ্রির মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। নীতিমালায় 'নিয়মিত শিক্ষার্থী' উল্লেখ থাকলেও খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রফেশনাল প্রোগ্রামের অধীনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। শিক্ষার্থীরা জানান, উক্ত প্রোগ্রামের একাডেমিক মান, মূল্যায়ন পদ্ধতি এবং নিয়মিত প্রোগ্রামের সাথে এর সামঞ্জস্যতা সম্পর্কেও তারা উদ্বিগ্ন। যদিও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এটিকে নিয়মিত শিক্ষার্থীই বলছে।
ঘটনার প্রেক্ষিতে গত ১ এপ্রিল বিভাগের শিক্ষার্থীরা উদ্বেগ তুলে ধরে উপাচার্য বরাবর গণস্বাক্ষর সংবলিত আবেদন জানান। এতে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকের অধীনে পাঠক্রমে অংশগ্রহণ নিয়েও অনাস্থা প্রকাশ করেন তারা। জাবিপ্রবি প্রোগ্রামিং ক্লাবের সভাপতি ও সিএসই বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান রিফাত বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল বিষয়, যা সরাসরি শিক্ষার মান, গবেষণা পরিবেশ ও প্রতিষ্ঠানের সুনামের সাথে সম্পৃক্ত। তাই প্রার্থীর একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড, গবেষণা প্রকাশনা এবং প্রোগ্রামিংসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দক্ষতাকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা অত্যন্ত জরুরি।”
সিএসই বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী ও রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক নিশাত তাসনিম বলেন, “অতীত নিয়োগসমূহে সাধারণত স্বনামধন্য প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় সান্ধ্যকালীন প্রোগ্রামের ডিগ্রিধারী প্রার্থী নির্বাচিত হওয়ায় কিছু যৌক্তিক প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এটি কোনো ব্যক্তি বিশেষকে উদ্দেশ্য করে নয়; বরং মানদণ্ডের সামঞ্জস্যতা নিশ্চিত করার বিষয়।”
কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের চেয়ারম্যান সহকারী অধ্যাপক সুজিত রায় জানান, “বিভাগীয় প্ল্যানিং কমিটি প্রতিটি ডিপার্টমেন্টের ন্যায় আমাদেরও প্রশাসনিকভাবে হয়েছে। প্রার্থীর ডিগ্রির ব্যাপারটা সার্কুলার অনুযায়ী হয়েছে। সার্কুলারে নিয়মিত-অনিয়মিত স্পেসিফিক ছিলো না। এখানে একটি গ্যাপ রয়ে গেছে। এখন যে দ্বিমত তৈরি হয়েছে, প্রশাসন রয়েছে, তারা তদন্ত কমিটি করে সিন্ডিকেটে সমাধান করতে পারেন।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ নুর হোসেন চৌধুরী বলেন, “প্রফেশনাল ডিগ্রি আমরা এলাও করেছি, এটা নিয়মিত শিক্ষার্থীই। বিভাগীয় প্ল্যানিং কমিটি আইনে নেই। নীতিমালায় আছে— শূন্যপদে রেজিস্ট্রার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং একটি কমিটির মাধ্যমে এটি যাচাই-বাছাই করবে। আর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পৃথক সিলেকশন কমিটি হয়েছে। কমিটি ও যাচাই-বাছাইয়ে সিএসই বিভাগের চেয়ারম্যান ছিলেন। কোনো সমস্যা থাকলে তিনি তখনই আপত্তি জানাতেন।”
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. তানজীমউদ্দিন খানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সাড়া পাওয়া যায়নি।
আপনার মতামত লিখুন :