রাজবাড়ীর আকাশ-বাতাসে লালের ছোঁয়া: রক্তিম কৃষ্ণচূড়ায় সেজেছে ‘পদ্মাপাড়ের জেলা’

নাজমুল হোসেন , গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ০৪:০০ পিএম

তপ্ত রোদে পুড়ছে প্রকৃতি, জনজীবনে নাভিশ্বাস। কিন্তু এই রুক্ষতার মাঝেই রাজবাড়ী জেলার পথে-প্রান্তরের দৃশ্য এখন একদম ভিন্ন। চারদিকে যেন লেগেছে রঙের হোলি। রাজবাড়ীর বিভিন্ন সড়ক, সরকারি দপ্তর আর গ্রামবাংলার আনাচে-কানাচে ফুটে থাকা টকটকে লাল কৃষ্ণচূড়া প্রকৃতিতে ঢেলে দিয়েছে এক মায়াবী আভা।

সরেজমিনে দেখা যায়, রাজবাড়ী থেকে কুষ্টিয়াগামী আঞ্চলিক মহাসড়কের দুই পাশে থাকা কৃষ্ণচূড়া গাছগুলো যেন একেকটি লাল গালিচায় পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে জেলা শহরের প্রবেশমুখ থেকে শুরু করে শ্রীপুর এবং বসন্তপুর এলাকার সড়কগুলোতে কৃষ্ণচূড়ার আধিপত্য নজর কাড়ছে পথচারীদের। বাতাসের ঝাপটায় যখন ফুলগুলো ঝরে পড়ে, তখন মনে হয় যেন পিচঢালা কালো পথ লাল গালিচায় মোড়ানো।

গোয়ালন্দ ঘাট থেকে শুরু করে শহর রক্ষা বাঁধ সংলগ্ন এলাকাগুলোতেও কৃষ্ণচূড়ার রাজকীয় উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। প্রখর রোদে পদ্মার বাতাস আর কৃষ্ণচূড়া গাছের শীতল ছায়া ক্লান্ত মানুষের জন্য প্রশান্তির ছোঁয়া হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিকেলের দিকে অনেক দর্শনার্থীকেই দেখা যাচ্ছে কৃষ্ণচূড়া গাছের নিচে দাঁড়িয়ে ছবি তুলতে এবং প্রকৃতির এই অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতি বছর এই সময়টির জন্য তারা অপেক্ষায় থাকেন। এক প্রকৃতিপ্রেমী বলেন, "গ্রীষ্মের প্রচণ্ড দাবদাহ থাকলেও কৃষ্ণচূড়ার এই রক্তিম আভা দেখলে মনের সব ক্লান্তি দূর হয়ে যায়। রাজবাড়ীকে এই সময়ে সত্যিই অপূর্ব লাগে।"

উদ্ভিদবিদদের মতে, কৃষ্ণচূড়া কেবল শোভাবর্ধনকারী গাছই নয়, এটি তীব্র গরমে ছায়া দিয়ে পরিবেশের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখে। রাজবাড়ীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণ ও অফিসের সামনে থাকা এই গাছগুলো এখন জেলার অন্যতম প্রধান সৌন্দর্যের উৎস।

"গগনে গগনে আপনারে মেলে ধরেছে কৃষ্ণচূড়া, রাজবাড়ীর পথে পথে আজ শুধুই লালের মেলা।" প্রকৃতির এই দান রাজবাড়ীর সাধারণ মানুষের যান্ত্রিক জীবনে কিছুটা হলেও স্বস্তির পরশ বুলিয়ে দিচ্ছে। কৃষ্ণচূড়ার এই লাল আভা যেন মনে করিয়ে দিচ্ছে, রুক্ষতার পরেই আসে সুন্দরের চরম বহিঃপ্রকাশ।

Link copied!