প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো পৈতৃক ভিটা বগুড়া সফরে এসে দিনভর একাধিক উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী এলাকায় তিনি এসব কর্মসূচি পালন করেন। এই সফরে তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি করা, নদী খনন এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
সফরের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী বাগবাড়ীতে অবস্থিত ‘জিয়াউর রহমান গ্রাম হাসপাতাল’ পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি দেশব্যাপী হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এরপর তিনি শহীদ জিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনগণের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে বাগবাড়ী শহীদ জিয়া ডিগ্রি কলেজ সরকারি করার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। এই ঘোষণায় উপস্থিত জনতা ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা যায়। এ সময় তিনি বলেন, “এলাকার উন্নয়ন তো হবেই, তবে আমাদের সারা দেশের বঞ্চিত মানুষের প্রতিও নজর দিতে হবে। গাবতলী বা বাগবাড়ীর পাশাপাশি সারা দেশের সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।”
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি ও তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান ১০ জন নারীর হাতে প্রতীকী ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন। এছাড়া ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় ৯১১ জন নারীর মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে ভাতা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তিনি।
বিকেলে প্রধানমন্ত্রী বাগবাড়ী গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ‘চৌকিরদহ খাল’ খনন কাজের উদ্বোধন করেন। দেশব্যাপী নদী-নালা ও খাল পুনরুজ্জীবিত করার কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিনি এই ফলক উন্মোচন করেন। এরপর বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে তিনি স্ত্রীসহ পৈতৃক ভিটা ‘জিয়াবাড়ি’তে যান এবং সেখানে কিছু সময় অতিবাহিত করেন।
পৈতৃক ভিটা থেকে সড়কপথে বগুড়া সার্কিট হাউসে ফেরার পর বিকেল পাঁচটায় প্রধানমন্ত্রী শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জেলা বিএনপি আয়োজিত বিশাল জনসভায় যোগ দেন।
অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য মোরশেদ মিল্টন, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, সাবেক এমপি হেলালুজ্জামান তালুকদার এবং জেলা বিএনপির সভাপতি ও সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশাসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আপনার মতামত লিখুন :