ময়মনসিংহের নান্দাইলে ৩ বছরের সন্তানসহ পথ হারানো এক নারীকে অপহরণ করে রাতভর গণধর্ষণের ঘটনায় জড়িত মূল আসামিদের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ এপ্রিল সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা থেকে শ্বশুরবাড়ি ভালুকায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন ওই নারী। সঙ্গে ছিল তার তিন বছর বয়সী শিশু সন্তান। পথ ভুল করে রাত ১১টার দিকে তিনি নান্দাইল এলাকায় নেমে পড়েন। অপরিচিত জায়গায় গভীর রাতে অসহায় অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকাকালে ৪-৫ জন যুবক তাকে হত্যার ভয় দেখিয়ে একটি অটোরিকশায় তুলে নেয়।
পরে তাকে গাঙ্গাইল ইউনিয়নের কান্দিউড়া এলাকার একটি হাওরের নির্জন জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ২০ এপ্রিল রাত ১২টা ১০ মিনিট থেকে ভোর সাড়ে ৪টা পর্যন্ত তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে আসামিরা ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহায়তায় ভিকটিম চিকিৎসা গ্রহণ করেন এবং আসামিদের মধ্যে 'কাজল' নামে একজনকে শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় ভিকটিমের পিতা আল-আমিন বাদী হয়ে নান্দাইল মডেল থানায় কাজলসহ অজ্ঞাতনামা ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে একটি গণধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপার মহোদয় আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন। নান্দাইল থানা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি চৌকস দল ময়মনসিংহ, গাজীপুর ও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান চালায়। অবশেষে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ডিএমপির ভাটারা থানাধীন বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে গত ২৮ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে অভিযুক্ত অটোরিকশা চালক মোঃ মোল্লা মিয়াকে (২৮) গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত আসামি: মোঃ মোল্লা মিয়া, পিতা- মৃত আঃ কাদির, সাং- কান্দিউড়া, থানা- নান্দাইল, জেলা- ময়মনসিংহ।
ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ঘটনার সাথে জড়িত মামলার অন্যতম আসামি কাজলসহ অন্যান্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
আপনার মতামত লিখুন :