নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার হাওরাঞ্চলে কয়েক দিনের টানা প্রবল বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে তলিয়ে গেছে শত শত একর পাকা বোরো ধানের জমি। চোখের সামনে সোনালি ফসল পানির নিচে তলিয়ে যেতে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন কৃষকরা। বছরজুড়ে হাড়ভাঙা খাটুনি আর ঋণের টাকায় ফলানো ফসল ঘরে তোলা নিয়ে দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা।
উপজেলার বিভিন্ন হাওর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, হঠাৎ পানি বৃদ্ধিতে অনেক নিচু জমি তলিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও কোমরসমান পানি জমে থাকায় আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি (কম্বাইন হারভেস্টার) ব্যবহার করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে পানিতে ডুবে থাকা ধান পচে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। অনেক কৃষক নৌকা নিয়ে কিংবা পানিতে ডুব দিয়ে ধান কাটার চেষ্টা করলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় সামান্য।
জালালপুর গ্রামের কৃষক আকিল ওয়াসিফ জয় বলেন, “সারা বছরের কষ্ট আর ঋণ করে চাষাবাদ করেছি। এখন ধান ঘরে তোলার সময় পানি সব শেষ করে দিল। আমরা এখন দিশেহারা।” একই এলাকার অন্যান্য কৃষকরা জানান, ধান কাটার জন্য শ্রমিকের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। কোথাও শ্রমিক মিললেও অতিরিক্ত মজুরি গুনতে হচ্ছে, যা কৃষকদের জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, তারা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে। দ্রুত ধান কাটার জন্য কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তবে কৃষকরা অভিযোগ করেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় ধান কাটার যন্ত্রপাতির অভাব এবং শ্রমিকের উচ্চ মজুরির কারণে তারা তাল মেলাতে পারছেন না।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জরুরি ভিত্তিতে সরকারি সহযোগিতা ও প্রণোদনার দাবি জানিয়েছেন। বিশেষ করে জলাবদ্ধ এলাকায় ধান কাটার জন্য প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা এবং আগামী মৌসুমে চাষাবাদের জন্য কৃষি ঋণের সুদ মওকুফের দাবি তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
আপনার মতামত লিখুন :