জলবায়ু বিপর্যয়ের কবল থেকে মোংলাসহ উপকূলীয় অঞ্চলের সুপেয় পানির সংকট নিরসনে একটি নাগরিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মোংলা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসন, ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা লিডার্স-এর আয়োজনে এই সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।
সকাল ১১টায় শুরু হওয়া নাগরিক সংলাপে সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম। সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম এমপি। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাগেরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন এবং বাগেরহাট জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী জয়ন্ত মল্লিক। স্বাগত বক্তব্য রাখেন মোংলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার সুমী। ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম মোংলার সভাপতি পরিবেশকর্মী মোঃ নূর আলম শেখ নাগরিক সংলাপ সঞ্চালনা করেন।
সুপেয় পানির সংকট নিরসনের উপর মাল্টিমিডিয়া প্রেজেন্টেশন করেন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা লিডার্স এর নির্বাহী পরিচালক মোহন কুমার মন্ডল, উন্নয়নকর্মী তৃপ্তি সরদার এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সুবহা তালহা। সংলাপে আরও বক্তব্য রাখেন উপসচিব আলমগীর হুসাইন, মোংলা সার্কেলের সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার মোঃ রেফাতুল ইসলাম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাহীন হোসেন, মোংলা থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ আতিকুল ইসলাম, মোংলা পোর্ট পৌরসভার সাবেক মেয়র পৌর বিএনপির সভাপতি মোঃ জুলফিকার আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ আবু হানিফ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান হাওলাদার, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু হোসেন পনি, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মানিক, মোংলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আহসান হাবীব হাসান প্রমুখ। সংলাপে মুক্ত আলোচনায় মোংলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
স্বাগত বক্তব্যে মোংলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিপর্যয়ের ফলে উপকূলের প্রধান দুর্যোগ হলো লবণাক্ততা। সুপেয় পানির সংকটে মোংলাসহ উপকূলের মানুষ দিশেহারা। সুপেয় পানির সংকট নিরসনে উপকূলের জন্য বিশেষ বরাদ্দ দিতে হবে। বক্তারা বলেন, উপকূলের ৭৩% মানুষ সুপেয় পানি থেকে বঞ্চিত। প্রায় ৩ কোটি মানুষ পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ পায় না এবং দেড় কোটি মানুষ ভূগর্ভস্থ লবণাক্ত পানি পানে বাধ্য থাকে। মোংলার ৬৫% মানুষের সুপেয় পানি সংগ্রহের কোনো ব্যবস্থা নেই। বাকি ৩৫% মানুষকে বৃষ্টির পানি সংগ্রহের জন্য সরকারি ও বেসরকারি ভাবে পানির ট্যাংকি বিতরণ করা হলেও তা দিয়ে ৬ মাসের পানি ধারণ করা সম্ভব।
সংলাপে সুপারিশ আকারে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ পানি আইনের ধারা ১৭ অনুযায়ী উপকূলীয় অঞ্চলকে পানি সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে ঘোষণা করতে হবে। জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থ জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ মোংলাসহ উপকূলীয় অঞ্চলে ব্যয় করতে হবে। বাগেরহাট জেলা পরিষদের শতাধিক পুকুরের বাণিজ্যিক মাছ চাষের ইজারা বাতিল করে খাবার পানি সরবরাহের কাজে ব্যবহার করতে হবে। পুকুর খনন ও সংরক্ষণের মাধ্যমে গ্রামে পাইপ লাইনের মাধ্যমে খাবার পানি সরবরাহ করতে হবে। মোংলা বন্দরের ৩টি পুকুর পৌরসভাকে ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দিতে হবে, যা দিয়ে সুপেয় পানি সরবরাহ করা সম্ভব। এডিপি ও টিআর-এর বরাদ্দ উপকূলীয় অঞ্চলে সুপেয় পানির সংকট নিরসনে প্রকল্প গ্রহণে ব্যবহার করতে হবে। আশু সমাধান হিসেবে মোংলাসহ উপকূলীয় অঞ্চলে সুপেয় পানির সংকট নিরসনে বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করার জন্য ব্যাপক ভাবে ট্যাংকি বিতরণ করতে হবে।
সংলাপ শেষে প্রধান অতিথি প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, বিশেষ অতিথি জেলা পরিষদ প্রশাসক ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম মোংলা উপজেলায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার বিভিন্ন পানির প্রকল্প ঘুরে দেখেন।
আপনার মতামত লিখুন :