কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় উজান থেকে নেমে আসা আকস্মিক পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষণে বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চলের বোরো ফসল তলিয়ে গিয়ে চরম বিপর্যয়ে পড়েছেন কৃষকরা। বছরের একমাত্র ফসল হারানোর শঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা।
গত শুক্রবার (১ মে ) ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে এবং বাস্তব পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণে নিকলী-বাজিতপুর আসনের সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল উপজেলার বিভিন্ন হাওর এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি নৌকাযোগে বরুলিয়া ও জংসাই হাওরের প্লাবিত মাঠ ঘুরে দেখেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন।
পরিদর্শনকালে ফসলহারা কৃষকদের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। কৃষকরা জানান, চোখের সামনে তাদের পাকা বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে। একদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অন্যদিকে কম্বাইন হারভেস্টার মেশিনের সংকট এবং তীব্র শ্রমিক স্বল্পতায় তারা অসহায় হয়ে পড়েছেন।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, বর্তমানে একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ১,৫০০ টাকা হলেও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে পাকা ধান দ্রুত ঘরে তোলা সম্ভব হচ্ছে না এবং ক্ষতির পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে।
সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল কৃষকদের কথা মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং তাদের প্রতি গভীর সহানুভূতি প্রকাশ করেন। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন।
তিনি বলেন, কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। আপনাদের এই অপূরণীয় ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সরকার সর্বোচ্চ সহায়তা দেবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে পর্যাপ্ত হারভেস্টার মেশিন ও প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করা হবে।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. রেহেনা মজুমদার মুক্তি, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মোকাররম সর্দার, নিকলী থানা অফিসার ইনচার্জ মো. মাহবুবুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. মানিক মিয়া ও হাজী মোহাম্মদ মাসুক মিয়াসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিবর্গ।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত বোরো ফসলের তালিকা প্রস্তুত এবং কৃষকদের ক্ষতিপূরণ নির্ধারণে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। এমপির এই পরিদর্শন ও দ্রুত পদক্ষেপে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে কিছুটা আশার সঞ্চার হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :