ফেনীর দাগনভূঞায় আতাতুর্ক স্কুল মার্কেটে অবস্থিত ‘গৌর নিতাই মিষ্টান্ন ভাণ্ডার’-এর কারখানায় চরম অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে মিষ্টি তৈরির চিত্র দেখা গেছে। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে পচা ও বাসি উপকরণের সঙ্গে দুর্গন্ধযুক্ত পরিবেশে তৈরি হচ্ছে এসব মিষ্টি।
সরেজমিনে কারখানায় গিয়ে দেখা যায়, অত্যন্ত ঘিঞ্জি ও অন্ধকারাচ্ছন্ন একটি কক্ষে মিষ্টি তৈরির কাজ চলছে। মেঝেতে জমে আছে নোংরা পানি ও ময়লা। মিষ্টির ছানা ও রস যেখানে রাখা হয়েছে, তার পাশেই খোলা ডাস্টবিন। কারখানার ভেতরে মাছি ভনভন করছে এবং অনেক মিষ্টির ট্রেতে মরা মাছি ও তেলাপোকা পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
কাজের সঙ্গে যুক্ত কারিগরদের পরনে ছিল অপরিচ্ছন্ন পোশাক। তাদের অধিকাংশের হাতে গ্লাভস বা মাথায় ক্যাপ ছিল না। এমনকি কারখানার এক কোণে রাখা চিনির সিরা ও দুধের কড়াইগুলোও যথাযথভাবে ঢেকে রাখা হয়নি।
কারখানার এক শ্রমিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অনেক সময় কয়েক দিনের পুরনো ও বাসি মিষ্টি নতুন সিরার সাথে মিশিয়ে পুনরায় বাজারজাত করা হয়।
স্থানীয় এক ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমরা বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে এসব দোকান থেকে মিষ্টি কিনি। কিন্তু এদের কারখানার ভেতরের অবস্থা দেখলে কেউ আর মিষ্টি মুখে তুলবে না। বাচ্চাদের স্বাস্থ্যের কথা ভেবে আমরা চরম দুশ্চিন্তায় আছি।
এ বিষয়ে গৌর নিতাই মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের মালিকপক্ষের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তারা কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। তবে স্থানীয়রা দাবি তুলেছেন, অতিবিলম্বে যেন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে এই কারখানার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক চিকিৎসক জানান, এই ধরনের নোংরা পরিবেশে তৈরি খাবার খেলে ডায়রিয়া, আমাশয় ও জন্ডিসসহ পেটের নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবল ঝুঁকি থাকে।
দাগনভূঞার সচেতন মহল প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত এই কারখানা সিলগালা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
আপনার মতামত লিখুন :