পীরগঞ্জে কাবিখা-কাবিটা ও টিআর প্রকল্পে দৃশ্যমান উন্নয়ন, সন্তোষ এলাকাবাসীর

মোঃ হানিফ মিয়া , পীরগঞ্জ (রংপুর) সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ০২ মে, ২০২৬, ০৬:০২ পিএম

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে কাবিখা, কাবিটা ও টিআর কর্মসূচির আওতায় ব্যাপক কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়িত হয়েছে। এতে গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থায় দৃশ্যমান উন্নয়ন ঘটেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিখা/কাবিটা) কর্মসূচির আওতায় ২ কোটি ১০ লাখ ৬৪ হাজার ১০৬ টাকা ৭৭ পয়সা বরাদ্দে ৭১টি কাবিখা (গম) এবং ১২৫.৫৪৭৭ মেট্রিক টন চালের বিপরীতে ২১টি কাবিখা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) কর্মসূচির আওতায় ১ কোটি ৬৬ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮২ টাকা ৪০ পয়সা বরাদ্দে ৯২টি প্রকল্প চূড়ান্ত অনুমোদন পায়।

প্রকল্পগুলোর কাজ সরেজমিনে পরিদর্শন করে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আব্দুল আজিজ সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “চলতি অর্থবছরে বাস্তবায়িত অধিকাংশ প্রকল্পের কাজের গুণগতমান ভালো এবং দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়েছে।” পরিদর্শন শেষে তিনি প্রকল্পগুলোর অর্থ ছাড় করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পপি খাতুনও অধিকাংশ প্রকল্প সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। কাজের মান সন্তোষজনক হওয়ায় তিনি চূড়ান্তভাবে অনুমোদন দিয়ে স্বাক্ষর করেন।

স্থানীয়রা জানান, অতীতে এসব কর্মসূচির আওতায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে মাটির কাজ করা হলেও এবার ইটের সলিং, সিসি (কংক্রিট) ও এইচবিবি (হেরিং বোন বন্ড) কাজ বাস্তবায়ন হওয়ায় গ্রামীণ সড়কে টেকসই উন্নয়ন হয়েছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে কাদামুক্ত থাকায় যাতায়াতে স্বস্তি ফিরেছে।

প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ও সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বাররা জানান, “আগে যেখানে মাটির রাস্তা থাকত, এখন সেখানে পাকা কাজ হওয়ায় উন্নয়ন দৃশ্যমান হয়েছে। আগামী দুই থেকে তিন বছর ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের কাজ হলে গ্রামের ছোট ছোট রাস্তাগুলো পুরোপুরি পাকা হয়ে যাবে।”

রামনাথপুর ইউনিয়নের দারিয়াপুর গ্রামের মরহুম বাদশা চেয়ারম্যানের ছেলে জহুরুল ইসলাম বলেন, “ইটের সলিং হওয়ায় আমরা কাদামুক্ত রাস্তা পেয়েছি। এখন বর্ষায় আর ভোগান্তিতে পড়তে হয় না।” একই ইউনিয়নের আব্দুল্যাপুর গ্রামের এক বাসিন্দা বলেন, “আগে বর্ষায় কাদার কারণে চলাচল করা খুব কষ্টকর ছিল। প্রায়ই মানুষ পিছলে দুর্ঘটনায় পড়ত। এখন রাস্তা উন্নয়ন হওয়ায় আমরা অনেক স্বস্তিতে আছি এবং সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞ।”

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের উন্নয়ন কার্যক্রমের ধারা অব্যাহত থাকলে গ্রামীণ জনদুর্ভোগ অনেকাংশে কমবে এবং সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে।

Link copied!