মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার পুটাইল ইউনিয়নের হিজলাইন মৌজায় ‘এআরসি’ নামক একটি ইটভাটার বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় প্রায় ২০০ শতাংশ জমির ধান মুহূর্তেই ঝলসে গেছে।
মঙ্গলবার বিকালে এই আকস্মিক বিপর্যয়ে ওই এলাকার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। চোখের সামনে বছরের একমাত্র ফসলের এই করুণ দশা দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ জুড়ে কেবল পুড়ে যাওয়া ধানের হাহাকার। কৃষকদের অভিযোগ, মঙ্গলবার বিকালে এআরসি ইটভাটার চিমনি থেকে হঠাৎ ঘন কালো ধোঁয়া নির্গত হয়ে সরাসরি কৃষি জমিতে ছড়িয়ে পড়ে। থোড়যুক্ত (শীষধরা) ধান এই বিষাক্ত ধোঁয়ার স্পর্শে আসার কিছুক্ষণ পরই শুকিয়ে তামাটে বর্ণ ধারণ করে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “বিকালের দিকে হঠাৎ কালো ধোঁয়া এসে ধানের ওপর পড়ে। চোখের সামনেই দেখি থোড়সহ ধান জ্বলে যাচ্ছে। আমার একারই কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এখন আমি কী খেয়ে বাঁচব?” একই হাহাকার শোনা গেছে কৃষক আলী হোসেনের কণ্ঠেও। তার ৬২ শতাংশ জমির ধান এখন পুরোপুরি ব্যবহারের অনুপযোগী।
এছাড়াও মজিবুর রহমান, আওলাদ হোসেন, শাহিন ও ইউছুপসহ আরও অনেক কৃষকের স্বপ্ন এখন ছাইয়ে পরিণত হয়েছে। কৃষকদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলেও দায় নিতে নারাজ এআরসি ইটভাটা কর্তৃপক্ষ।
ভাটার ম্যানেজার দায়সারাভাবে জানান, এলাকায় অনেক ইটভাটা রয়েছে, তাই ঠিক কোন ভাটার ধোঁয়ায় এই ক্ষতি হয়েছে তা তারা নিশ্চিত নন। তবে স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘক্ষণ ধরে এআরসি ভাটা থেকেই ওই বিষাক্ত ধোঁয়া বের হতে দেখা গেছে।
কৃষি বিভাগ ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর আশ্বাস মেলেনি।
তবে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফারুক জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার গেছে। কৃষকদের অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে।
এদিকে পরিবেশবাদীরা বলছেন, ইটভাটার এই বিষাক্ত ধোঁয়া কেবল কৃষিজমি নয়, বরং জনস্বাস্থ্য ও সামগ্রিক পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি। বারবার অভিযোগ সত্ত্বেও ব্যবস্থা না নেওয়ায় কৃষকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগী কৃষকরা অবিলম্বে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ইটভাটা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ আদায়ের দাবি জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে পরিবেশবিধি লঙ্ঘন করে গড়ে ওঠা এই ইটভাটার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়েছে।
কৃষকরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে কৃষিজমি রক্ষায় তারা কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন। এখন দেখার বিষয়, অসহায় এই কৃষকদের কান্নার আওয়াজ প্রশাসনের কানে পৌঁছায় কি না?
আপনার মতামত লিখুন :