রাজধানীর কলাবাগান থানার উপ পুলিশ পরিদর্শক( এসআই) রাকিবুল হাসান সরকার (শুভ) (৩২)নিখোঁজের ৮দিন অতিবাহিত হবার পরও সন্ধান না পাওয়ায় পরিবারের মধ্যে হতাশা নেমে এসেছে। ভাইকে ফিরে পেতে আবেগপ্লুত হয়ে কান্নায় বোনের আহাজারি । স্বামীকে পেতে অপেক্ষার প্রহর গুনছেন অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী, অসুস্থ পিতার কাছে লুকানো হচ্ছে নিখোঁজের ঘটনা। এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হলেও মেলেনি সন্ধান।
সোমবার (৪মে) সকালে শ্রীপুর উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের বাপতা গ্রামের বৈরাগবাড়ী মোড় এলাকায় নিখোঁজ এস আই রাকিবুল হাসান সরকার শুভ'র বাড়িতে গিয়ে কথা হয় তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী সামিয়া (২১) ও বোন আফরোজা সরকার মেরি'র সাথে।
তিনি জানান,২০২৬ সালের জানুয়ারির ২ তারিখে পারিবারিকভাবে বিযে হয় এস আই রাকিবুল হাসানের সাথে। তার পিতার বাড়ি একই ইউনিয়নের পার্শ্ববর্তী গ্রামের নান্দিয়া সাগুন গ্রামে। তার পিতার নাম শাহাব উদ্দিন।
স্ত্রী সামিয়া জানান,কিশোরগঞ্জের পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পি বি আই ) থেকে পোস্টিং হয়ে গত মার্চ মাসের ২৪ তারিখে ঢাকার কলাবাগান থানায় যোগদান করেন তার স্বামী রাকিবুল হাসান। নতুন স্টেশনে যোগদানের পর ব্যস্ত থাকায় একদিনও বাড়িতে যাননি তিনি।
শেষ কথা হয় গত ২৭ এপ্রিল সকাল ১০ টার সময় স্ত্রী সামিয়ার সাথে। এ সময় রাকিবুল হাসান তার স্ত্রীর কাছে অসুস্থ বাবার জন্য দোয়া চান নিজের প্রতি খেয়াল রাখতে বলেন।
ওইদিনই বিকাল ৩টার সময় সামিয়া তার স্বামীর হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ দেন। দীর্ঘ সময় মেসেজের কোন রিপ্লে না পেয়ে রাত ১০ টার সময় ফোন দিয়ে রাকিবুল হাসানের নাম্বার বন্ধ পান।ওইদিনই রাত সাড়ে ১১টায় কলাবাগান থানা হতে রাকিবুল হাসানের পিতার নাম্বারে ফোন দিয়ে জানান যে, রাজিবুল হাসান ডিউটিতে যাননি, সে বাড়িতে গিয়েছেন কিনা। এরপর থেকেই রাকিবুল হাসানের নিখোঁজের খবরটি প্রকাশ পায়।
৪ ভাই বোনের মধ্যে রাকিবুল হাসান দ্বিতীয়। বড় বোন আফরোজা সরকার মেরি থাকেন কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া স্বামীর বাড়িতে। তার ছোট ভাই সাদমান আল সাকিব ময়মনসিংহের আনন্দমোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে লেখাপড়া করেন। ছোট বোন মারিয়া(১৩) স্হানীয় কাওরাইদ বাজারে কওমী মাদরাসায় আবাসিক থেকে লেখাপড়া করেন।নিখোঁজ রাকিবুল হাসানের বড় বোন আফরোজা সরকার মেরি বলেন, ২০২২ সালে এস আই পদে চাকুরীতে যোগদেন তার ভাই। গত প্রায় দেড় বছর কর্মরত ছিলেন কিশোরগঞ্জের পিবিআইয়ে। সেখান থেকে ঢাকা কলাবাগান থানায় যোগদিয়ে নিখোজ হন তিনি।
তার ষাটোর্ধ পিতা হেফাটাইসিস সি, ডায়াবেটিস এবং লিভারসিরোসিস রোগে আক্রান্ত। তার অসুস্থতার কথা বিবেচনা করে পুত্রের নিখোঁজের সংবাদটি তার কাছে অনেকটাই আড়ালে রাখা হয়েছে।বড় বোন হিসেবে তিনি নিখোঁজ ভাইয়ের কর্মস্থল কলাবাগান থানায় গিয়ে পুলিশের সাথে যোগাযোগ করেছেন। এছাড়াও সম্ভাব্য সবস্হানে খোঁজাখুঁজি করেও ভাইয়ের সন্ধান মিলেনি।এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তার ভাই এবং ভাবির সাথে মধুর সম্পর্ক ছিল, তাদের মধ্যে পারিবারিক কোনো ধরনের বিভক্তি বা ভুল বোঝাবুঝি নেই।ক্ষোভ প্রকাশ করে মেরি বলেন, আমার ভাইকে নিয়ে বিভ্রান্ত ছড়ানো হচ্ছে, একটি খবরে উল্লেখ করা হয়েছে, আমার ভাই এর আগেও পালিয়েছে। আমার ভাই শান্ত স্বভাবের মানুষ এর আগে কখনো পালাইনি। অপর একটি নিউজে আমার ভাই বুথ থেকে টাকা তোলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, কলাবাগান থানার ওসি জানিয়েছে, এরকম খবরে কোন ভিত্তি নেই।
তিনি কান্না করে বলেন, কোন বিভ্রান্তি ছড়িয়ে না আমার ভাইকে পাওয়ার জন্য আপনারা প্রকৃত নিউজ করুন। এ সময় তার ভাইকে খুঁজে পেতে তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।কলাবাগান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ ফজলে আশিক জানান, গত ২৭ এপ্রিল বিকেলে রাত্রীকালীন ডিউটির কথা বলে ব্যারাক থেকে সাদাপোশাকে বের হন এস আই রাকিবুল হাসান শুভ। ওইদিন রাত সাতটা থেকে তার নাইট ডিউটি ছিল। কিন্তু সে ডিউটি করতে না আসায় তার বাবাকে ফোন করে খোঁজ নিয়ে জানাযায় সে বাড়িতে যায়নি। থানায় অনুপস্থিত হওয়ার পর থেকে তাঁদের স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি আরও জানান, সিসিটিভির ফুটেছে দেখা যায় এস আই রাকিবুল হাসান গত ২৯ এপ্রিল গুলিস্তান এলাকার ইসলামী ব্যাংকের বোথ থেকে পাঁচ হাজার টাকা উত্তোলন করেছেন। এছাড়াও তিনি তার সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যের সাথে আলোচনা করতেন যে, পিবিআই তে কর্মরত থাকা অবস্থায় তিনি ভালো ছিলেন, ঢাকায় যোগদানের পর থেকে তার কর্মব্যস্ততায় অস্থির লাগছে।
তবে পরবর্তী সময়ে নিখোঁজের বিষয়টি নিশ্চিত হবার পর থেকে তার সন্ধানে কাজ করছে পুলিশ।
এদিকে গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডাঃ রফিকুল ইসলাম বাচ্চু জানান, এসআই রাকিবুল হাসান শুভ'র নিখোঁজের খবর পেয়ে তার বাবার সাথে কথা বলেছেন তিনি। এছাড়াও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে দ্রুত সময়ের মধ্যে তার সন্ধান নিশ্চিত করার জন্য কথা বলেছেন তিনি।
আপনার মতামত লিখুন :