গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ীতে পুলিশের বিরুদ্ধে অপহরণ, নির্যাতন ও চাঁদাবাজির অভিযোগে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এক ব্যবসায়ীকে সিএনজিতে তুলে নিয়ে নির্জন স্থানে মারধর করে ভয় দেখিয়ে নগদ অর্থ ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের তিন সদস্যের বিরুদ্ধে। ঘটনায় অভিযুক্তদের তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) এক আদেশে কোনাবাড়ী থানার এএসআই আজিজুল হক, কনস্টেবল নাজমুল হোসেন ও মামুন হোসেনকে প্রত্যাহার করা হয়।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. দেলোয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, গত সোমবার রাত ১০টার দিকে চৌরাস্তা এলাকা থেকে তাকে জোরপূর্বক একটি সিএনজিতে তুলে নেয় কয়েকজন ব্যক্তি। পরে বাইমাইল হরিণচালা এলাকায় নিয়ে নির্জন স্থানে মারধর করা হয় এবং ইয়াবা দিয়ে মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখানো হয়।
দেলোয়ারের দাবি, সেখানে তার কাছ থেকে নগদ ২৮ হাজার ৪০০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। একই সঙ্গে সিএনজিতে থাকা সিফাত নামের আরেক যুবককেও আটকে রেখে ভয়ভীতি দেখানো হয়। পরবর্তীতে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে দেলোয়ারের অ্যাকাউন্ট থেকে আরও প্রায় ৭ হাজার ২০০ টাকা তুলে নেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী আরও অভিযোগ করেন, টাকা নেওয়ার পর তার ছবি তুলে হুমকি দেওয়া হয়—ঘটনা প্রকাশ করলে ভয়াবহ পরিণতির মুখে পড়তে হবে। এমনকি ঘটনার রাতেই একদল পুলিশ তার বাসায় গিয়ে বিষয়টি ‘মীমাংসা’ করার চেষ্টা করে এবং জোরপূর্বক ৫ হাজার টাকা ফেরত দেয়।তবে এই ঘটনার প্রধান হোতা অভিযুক্ত এএসআই আজিজুল হক এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
কোনাবাড়ী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. আবু নাসের আল-আমিন বলেন, “অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। সত্যতা পাওয়া গেলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগে সাধারণ মানুষের আস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়রা বলছেন, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দ্রুত শাস্তির আওতায় আনা না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
আপনার মতামত লিখুন :