চার বছরেও কাটেনি শূন্যতা;গাজীপুর আজও খোঁজে ‘মান্নান স্যার’কে

আখতার হোসেন , বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:২২ পিএম

গাজীপুর আজ যেন এক গভীর শূন্যতার নাম। সময়ের ক্যালেন্ডারে চারটি বছর পেরিয়ে গেলেও শহরের রাজনীতি, নগর উন্নয়ন আর মানুষের হৃদয়ে এখনো অনুপস্থিত এক পরিচিত মুখ,অধ্যাপক এম. এ. মান্নান।  প্রথম নির্বাচিত সিটি মেয়র, সাবেক প্রতিমন্ত্রী এবং ‘মাটি ও মানুষের নেতা’ হিসেবে পরিচিত এই জননেতার চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী আজ (২৮ এপ্রিল)। দিনটি ঘিরে গাজীপুরজুড়ে চলছে স্মরণ, শ্রদ্ধা আর নীরব আবেগের বহিঃপ্রকাশ।
 
২০২২ সালের এই দিনে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। দীর্ঘদিন কিডনি জটিলতাসহ নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগলেও জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত রাজনীতি ও মানুষের সেবায় নিজেকে নিবেদিত রেখেছিলেন। তাই তার চলে যাওয়াকে শুধু একটি মৃত্যুই নয়, বরং একটি যুগের অবসান হিসেবেই দেখেন অনেকেই।
 
শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করা মান্নান ধীরে ধীরে হয়ে ওঠেন গাজীপুরের জনমানুষের আস্থার প্রতীক। ১৯৯১ সালে গাজীপুর-২ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে জাতীয় রাজনীতিতে নিজের শক্ত অবস্থান গড়ে তোলেন। পরবর্তীতে ধর্ম ও বিজ্ঞান-প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে অর্জন করেন ব্যাপক সুনাম।
 
২০১৩ সালে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। সেই সময় নগর উন্নয়নে তার নানা উদ্যোগ ও সাহসী সিদ্ধান্ত গাজীপুরকে নতুন এক গতিপথে এগিয়ে নেয়। তবে তার রাজনৈতিক পথচলা ছিল কণ্টকাকীর্ণ—মামলা, গ্রেফতার, কারাবাস—সব প্রতিকূলতাকে পেরিয়ে তিনি ছিলেন অবিচল, আপসহীন।
 
অবশেষে ফ্যাসিস্ট হাসিনার  নির্যাতিত মেয়র অধ্যাপক এম এ মান্নান আজকের এই দিনে হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।  আজকের এই দিনটি স্মরণীয় করে রাখতে গাজীপুর মহানগর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন দোয়া মাহফিল, কোরআন খতম ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। 
 
একই সঙ্গে তার রাজনৈতিক উত্তরসূরি ও গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এম. মঞ্জুরুল করিম রনির পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে পৃথক কর্মসূচি। জানা যায়,স্থানীয়দের কাছে তিনি ছিলেন শুধু একজন রাজনীতিক নন, ছিলেন ‘মান্নান স্যার’—একজন অভিভাবক, একজন সাহসী পথপ্রদর্শক। তাই চার বছর পরও গাজীপুরের অলিগলি, রাজপথ আর মানুষের মুখে উচ্চারিত হয় একই প্রশ্ন—এই শূন্যতা কবে, কীভাবে পূরণ হবে?

Advertisement

Link copied!