গাজীপুরে ত্রিভুজ প্রেমের রক্তাক্ত পরিণতি: বাবা-ছেলে খুন, বড় ভাইয়ের আদালতে চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি

আখতার হোসেন , বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ০২:২৭ পিএম

গাজীপুর সিটির টঙ্গীতে একই পরিবারের বাবা ও ছেলেকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর সত্যতা। ত্রিভুজ প্রেমের জেরে ছোট ভাইকে হত্যার পর ঘটনাটি দেখে ফেলায় বাবাকেও ট্রেনের নিচে ফেলে হত্যার কথা আদালতে স্বীকার করেছে বড় ছেলে সাইফুর রহমান সোহান (২৭)।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট যুবায়ের রশীদের আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সোহান জানায়, খালাতো বোনের সঙ্গে তার বিয়ে ঠিক থাকলেও ওই মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে তার ছোট ভাই সাকিবুর রহমান শোয়েবের। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক উত্তেজনা চলছিল।

জবানবন্দি অনুযায়ী, ছোট ভাইকে সম্পর্ক থেকে সরে আসতে একাধিকবার চাপ দিলেও শোয়েব রাজি না হওয়ায় ক্ষোভে তাকে হত্যা করে সোহান। এ সময় তাদের বাবা মো. সোহেল ঘটনাটি দেখে ফেললে পরিকল্পনা ফাঁস হওয়ার আশঙ্কায় তাকেও নির্মমভাবে ট্রেনের নিচে ফেলে হত্যা করা হয়।

ঘটনার পর পুরো বিষয়টি ভিন্ন খাতে নিতে সোহান আত্মীয়দের কাছে মিথ্যা গল্প ছড়ায়, যেন মাদকের টাকার বিরোধে বাবা ছেলেকে হত্যা করে পরে আত্মহত্যা করেছেন।

তবে তদন্তে অসঙ্গতি ধরা পড়ায় টঙ্গী পূর্ব থানার পুলিশ সোহানকে আটক করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার আচরণ সন্দেহজনক হওয়ায় পরে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। সেখানেই সে বিস্তারিত স্বীকারোক্তি দেয়, যা মামলার মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে।

উল্লেখ্য, রোববার ভোরে টঙ্গীর বনমালা এলাকা থেকে পুলিশ ও রেলওয়ে (জিআরপি) পুলিশ বাবা ও ছেলের মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহত সোহেলের বোন শিরিন সুলতানা বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

নিহতরা হলেন—উত্তর দত্তপাড়া বনমালা এলাকার বাসিন্দা মো. সোহেল (৪৮) ও তার ছেলে সাকিবুর রহমান শোয়েব (১৭)। শোয়েব উত্তরা আনোয়ারা মডেল ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিল ও পাশাপাশি একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করত।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় পারিবারিক সম্পর্ক, প্রেম ও প্রতিশোধের ভয়াবহ রূপ সামনে আসায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া, পাশাপাশি সৃষ্টি হয়েছে তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্য।

Advertisement

Link copied!